ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইজিবাইক-অটোরিকশায় জট বেহাল সড়কে নাকাল মানুষ

ইজিবাইক-অটোরিকশায় জট বেহাল সড়কে নাকাল মানুষ
×

মুন্সীগঞ্জের পুরোনো কাচারি এলাকায় জুবিলী সড়কে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের কারণে সৃষ্টি হয় যানজট। সম্প্রতি তোলা ছবি সমকাল

 কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, মুন্সীগঞ্জ

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ০১:০১

শহরের কয়েকটি স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড। সড়কগুলোয় প্রয়োজনীয় কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই চলছে হাজার হাজার ইজিবাইক, মিশুক ও অটোরিকশা। চালকেরা যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা করছেন। সিগন্যাল ছাড়াই গাড়ি ঘুরিয়ে ব্যস্ততম সড়কে তৈরি করছেন যানজট। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ভবন এলাকা, কলেজ রোড, পুরোনো বাসস্ট্যান্ড, জুবিলী রোড, সুপার মার্কেট মোড়সহ কয়েকটি স্থানে ঘুরে পাওয়া গেছে এমন চিত্র।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শহরের সর্বত্র তিন চাকার যানের ছড়াছড়ি। নিয়মের তোয়াক্কা না করে এসব যান চলাচল করায় শহর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজট তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে ভোগান্তি বাড়িয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের খানাখন্দ। 
শরীয়তউল্লাহ বাবলুসহ কয়েকজনের ভাষ্য, সুপার মার্কেট থেকে পুরোনো কাছারি পর্যন্ত যানজট মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রতিদিন। ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি অপরিকল্পিত ইজিবাইক, মিশুক ও অটোরিকশা চালানো, যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা করা, ফুটপাতে দোকান এবং সড়কে পার্কিং করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গেছে। 
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের দখলে থাকে সড়কের বড় একটি অংশ। শহরের বাসিন্দারা জানান, এসব যানের পাশাপাশি ভটভটি, শ্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়ি, নছিমন, করিমনও অবৈধভাবে প্রধান সড়কে চলাচল করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের লোকজনই ফুটপাত দখল করে আছেন অভিযোগ করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী আবু সুফিয়ান বিপ্লব বলেন, দখলদারদের উচ্ছেদে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে পথচারীদের স্বাভাবিকভাবে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় নিবন্ধিত মিশুক ও ইজিবাইকের সংখ্যা সাত হাজারের অধিক। কিন্তু চলাচল করছে অন্তত ১৫ হাজার। সাবেক মেয়রের উদ্যোগে এসব নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর নিবন্ধন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।
শহরের কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও তাদের লোকজনের দখলেই আছে ফুটপাত। মধ্য-দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক ভিপি মোহাম্মদ শাহিনের ভাষ্য, পুরোনো কাছারীসহ পৌর ভবনের সামনে গেলেই বোঝা যায়, কি হ-য-ব-র-ল অবস্থা। সড়ক দখল করে আছে অবৈধ দোকানপাট। নতুন সরকারের সময়েও দোকানপাট বসানো হচ্ছে।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই অসাধু গ্যারেজ মালিকরা ইজিবাইকের সংখ্যা বাড়িয়ে শহরে চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী সোহরাব মিয়ার। তিনি বলেন, অটো গ্যারেজে তৈরি করা ইজিবাইক সড়কে চলা শুরু হওয়ায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। 
সিএনজিচালিত অটোরিকশা, স্কুটার চালাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ট্যাক্স দিতে হলেও ইজিবাইক চালাতে কিছুই প্রয়োজন হয় না বলে জানান শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনামুল হক। তিনি বলেন, ইজিবাইকের চাহিদা বেড়েছে। এসব ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নম্বর প্লেটের আওতায় আনা জরুরি।
পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব ইজিবাইক চলাচল শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে বলেন, যত্রতত্র পার্কিং না করা, যাত্রী উঠানো-নামানো বন্ধ করা এবং শহরাঞ্চল থেকে ইজিবাইক শহরে ঢোকার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মানার বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে ইজিবাইক মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সুপার মার্কেটের পূর্বের অংশের পেছনে জুবিলী সড়কটি শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি দিয়েই বেশির ভাগ যানবাহন চলাচল করে থাকে। এ সড়কের প্রেস ক্লাব থেকে পৌরসভা কার্যালয় পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০টি গর্ত রয়েছে। আগে এসব গর্ত রাবিশ ফেলে ভরাট করলেও পরবর্তী সময়ে আর সংস্কার করা হয়নি। অটোরিকশাচালক আব্দুল আজিজ মিয়ার ভাষ্য, গর্তগুলো এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
শহরের প্রধান সড়কের কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, অন্যান্য সড়কও দ্রুত সংস্কার করে দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।
সদর ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইজিবাইকের কারণে যানজট নিরসনে তাদের হিমশিম খেতে হয়। অতিরিক্ত যান সড়কে যুক্ত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সঙ্গে সুধী সমাজ এবং সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মত তাদের।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শহরে যানজটের মূল কারণ অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক চলাচল এবং যাত্রী ও চালকদের ট্রাফিক আইন না মানা। এসব রেজিস্ট্রেশনের আওতায় এনে চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে যানজট কমবে। চালকেরা আইন জানে না, মানেও না।

আরও পড়ুন

×