গরিবের ৩৪ লাখ টাকা মেরে লাপাত্তা কর্মকর্তা
মোজাম্মেল হকে
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৫ | ০১:০৭
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পসহ দুস্থদের ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া মায়ের চিকিৎসাসহ নানা অজুহাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থেকে ধার করেছেন কয়েক লাখ টাকা। তাঁর পালিয়ে যাওয়ার খবর চাউর হলে টাকা ধার দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন ভুক্তভোগীরা। গত ২৮ জুলাই থেকে পলাতক এ কর্মকর্তা।
টাকা নিয়ে মোজাম্মেল হকের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে তদন্তের উদ্যোগ নেন জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। তদন্তের দায়িত্ব পান দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুল তালুকদার। তদন্তে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে। ১৪ আগস্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহ আলম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তির ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, মাতৃকেন্দ্রের ঋণ কর্মসূচির ৫ লাখ ১৩ হাজার, ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের ১ লাখ ৪০ হাজার ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের ২২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এক কর্মচারীর স্বাক্ষর জাল করে তুলে নিয়েছেন। এ ছাড়া অফিসের কর্মচারীদের থেকে ধারে দুই লাখ ও উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছ থেকে নানা অজুহাতে আরও কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
কয়েকজন কর্মচারী জানিয়েছেন, একজন কর্মকর্তা এমন হবে কখনও ভাবা যায় না। তাদের সবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকার বেশি নিয়েছেন মোজাম্মেল হক।
গত বৃহস্পতিবার অফিস সহকারী নিজামুল আজাদ জানান, মোজাম্মেল হক সর্বশেষ ২৭ জুলাই অফিস করেছেন। তারপর থেকে আর অফিসে আসেননি। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলার একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘একজন সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিবারের কারও অসুস্থতার কথা বলে টাকা ধার চাইলে কে না দেবে, বলুন। আমিও বেশ কয়েক হাজার টাকা দিয়েছি। পালিয়ে যাওয়ার পর অনেক কর্মকর্তাই বলছেন, তাদের কাছ থেকে একই কায়দায় টাকা ধার নিয়েছেন মোজাম্মেল হক। এর পরিমাণ কয়েক লাখ হবে। অনেকে আবার মানসম্মানের ভয়ে বলতে চাইছেন না।’
মোজাম্মেল হক ২০২৪ সালের মে মাসে মোহনগঞ্জ উপজেলায় সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই নানা অনিয়ম শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে তাঁর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশালে বলে জানা গেছে।
নেত্রকোনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহ আলমের ভাষ্য, বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। মোজাম্মেল হক ৩৩ লাখ টাকার বেশি অবৈধভাবে অফিসের ব্যাংক হিসাব থেকে তুলে নিয়েছেন বলে তদন্তে জানা গেছে। ওই তদন্ত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি টাকা মেরে হজম করার সুযোগ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হবে। টাকাও ফেরত দিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালনকালে একইভাবে অর্থ কেলেঙ্কারি করেন মোজাম্মেল হক। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করায় তিরস্কার দণ্ড দিয়ে তাঁকে মোহনগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়।
- বিষয় :
- কর্মকর্তা
