শ্লীলতাহানির পর বাস থেকে ফেলা হয় কুবি ছাত্রীকে
অভিযুক্ত দুজন কারাগারে তিনজন পলাতক
গ্রেপ্তারকৃত ২ ছিনতাইকারী
কুবি সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৫ | ০১:১৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক ছাত্রী চট্টগ্রামগামী সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাসে শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী ছাত্রীকে বাস থেকে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। আটক দুজনের মধ্যে আলী হোসেন নামে একজনের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়ায়। অন্যজন মোহাম্মদ আলী, বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা জানান, ওই ছাত্রী আলেখারচর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে সেন্টমার্টিন পরিবহনে ওঠেন। এ সময় বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড যাওয়ার পথে গাড়িতে থাকা হেলপার ও তার সহযোগী আরও দুজন ছাত্রীর হাত-পা বেঁধে গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা তাকে যৌন হয়রানির পাশাপাশি ‘হত্যার উদ্দেশ্যে’ গাড়ি থেকে ফেলে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাস থেকে একজনকে পড়ে যেতে দেখে তারা (বাস) আটকান। এ সময় বাসে থাকা পাঁচ অভিযুক্তের তিনজন পালায়। বাকি দুজনকে তারা আটকে রাখেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এসে অভিযুক্তদের মারধর করেন। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিয়ে বিচার করতে চান– এমনটা বললে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, ভুক্তভোগীর ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। তবে পুলিশ প্রশাসন ‘সঠিক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে না পারায়’ তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। অভিযুক্তদের বহনকারী পুলিশের গাড়িও শিক্ষার্থীরা আটকে রাখেন। পরে সেন্টমার্টিন পরিবহনের দুটি বাস বিশ্ববিদ্যালয়ে আটকে রাখা হয়।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে রাস্তার দুদিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপার এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনার পর অভিযুক্তদের শাস্তির নিশ্চয়তার আশ্বাস পেলে তারা অবরোধ তুলে নেন। বিকেল ৫টার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া খানম বলেন, ‘যে দুজনকে আটক করা হয়েছে, তাদের আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুই বছরের জেল দিয়েছি। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা হবে। ভুক্তভোগীর যে ক্ষতি হয়েছে, তা আটক বাসের মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক হায়দার আলী বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দুই বছরের জেল দিয়েছেন, যা অজামিনযোগ্য। পুলিশ প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করবে। এক মাসের মধ্যে মামলার চার্জশিট দেবে। এ ছাড়াও ছিনতাই, হত্যা ও ধর্ষণের চেষ্টা পুলিশ পৃথকভাবে খতিয়ে দেখবে।
- বিষয় :
- শ্লীলতাহানি
