ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চন্দনাইশে শৌচাগারে মিলল নববধূর লাশ, স্বামী আটক

চন্দনাইশে শৌচাগারে মিলল নববধূর লাশ, স্বামী আটক
×

মোছাম্মৎ সাদিয়া সুলতানা আরফি ও মিজানুর রহমান রিদুয়ান।

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৮:৪২

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মোছাম্মৎ সাদিয়া সুলতানা আরফি (১৯) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। আজ বুধবার ভোরে বাড়ির শৌচাগার থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় স্বামী মিজানুর রহমান রিদুয়ানকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। তিনি চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের গোলাম শরীফের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, আট মাস আগে সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ প্রকাশ জাহেদের মেয়ে সাদিয়া সুলতানা আরফির সঙ্গে চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের গোলাম শরীফের ছেলে মিজানুর রহমান রিদুয়ানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও শ্বশুর পরিবারের লোকজন আরফিকে নির্যাতন করত। 

স্থানীয়দের দাবি, আরফির স্বামী একজন মানসিক ভারসাম্যহীন। বুধবার ভোরে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা করে মরদেহ শৌচাগারে ঢুকিয়ে রাখে। সকালে ঘরের দরজা খুলতে দেরি হওয়ার কারণে পরিবারের লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে দেখে আরফির মরদেহ বাথরুমে পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী রিদুয়ানকে আটক করেছে পুলিশ।

আরফির মামা নাজিম উদ্দীন বলেন, রিদুয়ান কোনো মানসিক রোগী নয়। বিগত এক-দেড় মাস আগে ব্যবসা করার জন্য সে তার শ্বশুরের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় তার ওপর নির্যাতন শুরু করে রিদুয়ান। ঘটনার দিন রাতে আমার ভাগনিকে মেরে বাথরুমে ঢুকিয়ে রাখে।

তিনি জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে আমাদের খবর দেওয়া হয় আরফির অবস্থা খারাপ, বেশি রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে বলি আর আমরা এদিক থেকে রওনা দেয়। ভোর সাড়ে ৫-৬টার দিকে গিয়ে দেখি ঘাতক রিজুয়ান স্বাভাবিক অবস্থায় বাড়িতে ঘুম ছিল। আমাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সে তড়িঘড়ি করে ঘুম থেকে উঠে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আরফির লাশ বাথরুম থেকে টেনে বের করে। এ সময় সে পাগল সেজে পরনের কাপড়-চোপড় খুলে উলঙ্গ হয়ে যায়। এদিকে তার পরিবারের লোকজন ও এলাকার কিছু ব্যক্তি তাকে পাগল সাজানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। আরফি কোনো সময় বলেনি রিদুয়ান কোনো সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। মূলত টাকা না পেয়েই তাকে গত রাতে মারধর করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও জড়িত বলে তাদের ধারণা। 

চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়। লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×