ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিদ্যালয়ে ঝগড়া, শিক্ষিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ

বিদ্যালয়ে ঝগড়া, শিক্ষিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ
×

.

কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫২

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষিকার ঝগড়া হয়। এতে জড়িয়ে পড়েন তাদের স্বামীরাও। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। কেউ কেউ বিষয়টিকে রং চাপিয়ে উত্তেজনাকর মন্তব্য করতে থাকেন। অথচ ওই দুই শিক্ষকের মধ্যে ঝগড়ার কারণ জমি নিয়ে পরিবারের পুরোনো বিরোধ। অনুসন্ধানে জানা গেছে এসব তথ্য।
ভুক্তভোগী বড়চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিতালী চক্রবর্ত্তীর (৩৮) অভিযোগ বুধবার রাতে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করেছে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ। এতে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বিলকিছ আক্তার (৪০) ও তাঁর স্বামী পাশের রামদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এনামূল হককে (৪৭) বিবাদী করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন ওই থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন।
গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বড়চর বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে শিক্ষিকা বিলকিছ আক্তার ও মিতালী চক্রবর্ত্তীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। পরে এতে যোগ দেন বিলকিছ আক্তারের স্বামী এনামূল হক ও মিতালী চক্রবর্ত্তীর স্বামী শশাঙ্ক গোস্বামী। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, প্রায় ৪৫ বছর আগে শিক্ষিকা মিতালী চক্রবর্ত্তীর শ্বশুর সুবোধ লাল গোস্বামী একটি জমি রামদী গ্রামের শিক্ষক এনামূল হকের বাবা মৃত ফজলুল হকের নামে সাফ কবলা ও প্রতিবেশী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনের নামে বায়নাপত্র দলিলমূলে বিক্রি করেন। এ নিয়ে মামলা হলে ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে আদালতের রায় হয়।
এদিকে ২০১২ সালে এনামূল হকের পরিবার বাড়ির পাশের পৈতৃক জমিতে নূরানি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে। পরে নির্মাণ করে মসজিদ। মাদ্রাসা কমিটির বিবাদে আরেকটি পক্ষ পাশেই ডা. মোয়াজ্জেম হোসেনকে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া মৃত সুবোধ লাল গোস্বামীর জমিতে ২০২২ সালে আরেকটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে। পুরোনো বিরোধ নিয়ে তর্কাতর্কির জেরেই দুই শিক্ষিকার মধ্যে 
ঝগড়া হয়। এ বিষয়ে মিতালী চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘ঝগড়ার মধ্যেই রামদী স্কুলের শিক্ষক এনামূল হক এসে তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে আমার ও আমার স্বামীর ওপর অতর্কিত হামলা করেন।’ এ সময় এনামূল হক তাঁর জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে এনামূল হক ও বিলকিছ আক্তারের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। বড়চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তামান্না ইশরাত সালমার ভাষ্য, ‘বিষয়টি ডিজি পর্যন্ত গেছে। আমার কোনো কথা বলা সম্ভব নয়।’

আরও পড়ুন

×