ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শরীয়তপুরে অটোচালকের চোখ উপড়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

শরীয়তপুরে অটোচালকের চোখ উপড়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ
×

ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৪:৪৪ | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৪:৪৬

শরীয়তপুরের জাজিরায় রমজান মিয়া (৩৮) নামে এক অটোচালকের চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তার হাত-পায়ের রগ কেটে ও পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সুমন শিকদার ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সুমন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব নাওডোবার রুপবাবুর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর স্থানীয়রা সুমনের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টহল পুলিশকে নিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে তার সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে আহত রমজান মোল্লা তার ইঞ্জিন চালিত অটোরিকশা নিয়ে জাজিরা থেকে নাওডোবা যাচ্ছিল। এই সময় অভিযুক্ত সুমন শিকদারসহ কয়েকজন সহযোগীকে সাথে নিয়ে রমজানের অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে রমজানকে সবাই মিলে ধরে সুমন শিকদারের বাড়ির পেছনে নিয়ে যায়। এরপরে অটোচালক রমজানের দুই চোখ উঠিয়ে আগুনে পুড়ে ফেলে। এই সময় তার চার হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় তারা।

পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে সুমন শিকদার তার দলবল নিয়ে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় শাহজাহান সম্রাট নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এরপর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সুমন শিকদারের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, পূর্ব নাওডোবা এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন শিকদার বলেন, আমরা সকাল ১০টার পরে খবর পাই বাঁশঝাড়ের ভিতরে এক লোককে মারধর করা হচ্ছে। পরে লোকজন নিয়ে সেখানে গিয়ে দেখি এক লোককে সুমন শিকদারসহ আরও কয়েকজন মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছে। পরে আমাদের দেখে সুমনসহ সবাই দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় শাহজাহান নামে একজনকে আমরা আটক করে পুলিশে দিয়েছি। এছাড়াও সুমন শিকদার দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে। তার নামে অনেক মামলা রয়েছে। পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে আবার জামিনে চলে আসে।

আহত ভুক্তভোগী রমজান মোল্লা বলেন, আমি অটোরিকশা নিয়ে নাওডোবা যাওয়ার সময় সুমন শিকদার, সোহেল চাপলাসী, সোহেল চোকিদার, শাহজাহান সম্রাট, বাচ্চু সুমনসহ আরও কয়েকজন মিলে গাড়ি থামিয়ে আমাকে জোর করে বাঁশবাগানে নিয়ে আমার চোখ উঠিয়ে ফেলে ও হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। তাছাড়া সুমন শিকদার তার বাড়ির পিছনে বাঁশবাগানে নিয়মিত মাদক ও জুয়ার আসর বসায়। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় সুমন আগে কয়েকবার জেলে গেছে। আর আমি অটোরিকশা চালাই। তাই মাঝে মাঝে আমার অটোতে করে থানা পুলিশ রাতে টহল দিত। তাই প্রশাসনের লোকজন নিয়ে ঘোরাফেরার কারণে পুলিশের সোর্স মনে করে ক্ষুব্ধ হয়ে সুমন তার লোকজন নিয়ে এ কাজ করেছে।

এ বিষয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ পারভেজ সেলিম বলেন, রমজান মোল্লা নামে যে ব্যক্তির চোখ উঠিয়ে ফেলা হয়েছে ও হাত-পা কাটা হয়েছে। তিনি জাজিরা উপজেলার দক্ষিণ বাইকশা এলাকার শফি মোল্লার ছেলে। এই ঘটনা শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। খবর পেয়েছি, স্থানীয় জনতা এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন অভিযুক্তর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। অভিযুক্ত সুমন সিকদারের নামে থানায় মাদক মামলাসহ ২০টি মামলা রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×