ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কুবি শিক্ষার্থী ও তার মাকে হত্যা, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কুবি শিক্ষার্থী ও তার মাকে হত্যা, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
×

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি-সমকাল

কুবি সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৮:৩৭ | আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২১:২১

কুমিল্লার উত্তর কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তার মা ফাতেমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল তৈরি করে এবং সকালে মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছে।   

সুরতহালে দায়িত্বরত ব্যক্তি সাখাওয়াত বলেন, কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিনের শরীরে কোথাও রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার মা তাহমিনা বেগমের চোখ এবং মুখ থেকে রক্ত বের হয়েছিল। যদি বিষপান করিয়ে হত্যা করা হতো তাহলে মুখ থেকে লালা পড়তো। 

পরিবার ও বাড়ির মালিক সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়া আফরিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। চার বছর আগে কুমিল্লার আদালতের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বাসাটি ভাড়া নেন। গত বছর তাঁর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (৫০) সন্তানদের নিয়ে এ বাসায় থাকতেন। তারা অন্য কারও সাথে তেমন কথা বলতেন না। গতকাল রাতে তার দুই ছেলে ঢাকা থেকে বাসায় আসলে তারা ঘরের দরজা খোলা দেখেন। এ সময় তারা ভাবেন তাদের মা ও বোন ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু বাসায় ঢুকার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তাদের কোন সাড়া শব্দ না পেলে জাগাতে গিয়ে দেখেন তারা নড়ছে না। পরে ৯৯৯-এ কল পেয়ে গভীর রাতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।

সিসিটিভির ফুটেজ ও সন্দেহের ভিত্তিতে আটক ১ 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রোববার সকাল ৮টা ৮ মিনিটে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মাথায় টুপি পাঞ্জাবি পাজামা পড়া বাসায় প্রবেশ করে। পরে বেলা ১১টা ২২ মিনিটে বাসা থেকে বের হন তিনি। আবারও বেলা ১১টা ৩৪ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন তিনি। তবে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত আর কোন সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

বাড়ির মালিক এবং স্কুল কর্মকর্তারা জানান, সকালে বাসায় এক অপরিচিত ব্যক্তির প্রবেশ নিয়ে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। 

এই সন্দেহ ও সিসিটিভি ফুটেজ তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আব্দুর রব (৭৩) নামের একজনকে আটক করেছে র‍্যাব-১১ সিপিসি-২। নিহতের সঙ্গে সর্বশেষ আব্দুর রবের যোগাযোগ হয়েছিল। আব্দুর রব পেশায় কবিরাজ। তার বাড়ি লাঙ্গলকোট।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও আল্টিমেটাম

কুবি শিক্ষার্থী ও তার মাকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ১২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে কুমিল্লা শহর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে অচল করে দেওয়া হবে।

সোমবার দুপুর ১টায় কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়স্থ পূবালী চত্বরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করেন তারা।  

এ সময় শিক্ষার্থীরা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়ে প্রথমে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়ার কথা জানান। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। 

মানববন্ধনে কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, গতকাল রাতে কুমিল্লায় সুমাইয়া ও তার মাকে ভাড়া বাসায় হত্যা করা হয়েছ। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সঠিক তদন্ত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হবে। 

বিক্ষোভ মিছিলে ভুক্তভোগীর সহপাঠী ও লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিয়া আফরোজ বলেন, আমাদের সহপাঠী ও তার মায়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এ ধরনের নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যেন আর কোনো পরিবার এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

এই ঘটনায় দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা শিক্ষার্থী ও তার মায়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা দ্রুততম সময়ে দোষীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করব। ইতোমধ্যে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাচ্ছে না। আমরা তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন,  আমরা ১২ ঘণ্টার মধ্যে মামলার দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবো। ইতোমধ্যে সন্দেহাতীত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×