পদ্মার ভাঙনে এক রাতেই বিলীন বিজিবি ক্যাম্পসহ বহু বাড়ি-ঘর
পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ছবি-সমকাল।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৪:৩৪
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এক রাতে বিলীন হয়েছে বিজিবির একটি ক্যাম্পসহ বহু বাড়ি-ঘর।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে নদীর ভয়াবহ ভাঙনে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা উদয়নগর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিওপির দুই-তৃতীয়াংশ পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একই রাতের নদী ভাঙনে বিজিবি ক্যাম্পের পাশাপাশি প্রায় এক কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে বহু ফসলি জমি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণে পদ্মা ও গড়াই নদীর অন্তত ১৭টি স্থানে ভাঙনের শঙ্কা আছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং উদয়নগর বিওপি রক্ষার্থে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। তবে ভাঙনের তীব্রতায় তা কাজে আসেনি। ভাঙন কবলিত এলাকা রক্ষার্থে নতুন করে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় খারিজাথাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাবুল হোসেন বলেন, গত বুধবার রাত থেকে নদী ভাঙনের এমন রূপ আগে দেখিনি। অতি দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কয়েকটি গ্রাম বিলীন হওয়ার আশঙ্কা আছে।
স্থানীয় চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান শেখ বলেন, বিজিবির ক্যাম্প ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় আছে। বাড়ি হারিয়ে অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। ভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি অসহায় এসব মানুষকে পুনর্বাসন করা প্রয়োজন।
এদিকে শুক্রবার চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর বিওপি ক্যাম্প পরিদর্শন ও সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান। তিনি বলেন, ভাঙনের আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। তাই কয়েক দিন আগে সেখান থেকে বিজিবির সব সদস্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাশের চর-চিলমারী বিওপিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। উদয়নগর বিওপি নদীতে বিলীন হওয়ায় চর চিলমারী বিওপি থেকে উদয়নগর এলাকায় টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে। বিজিবি ক্যাম্প ভেঙে যাওয়ার কারণে সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো সমস্যা হবে না। নদীপথে টহল জোরদার করা হয়েছে।
পাউবোর কুষ্টিয়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, সকালে উদয়নগর বিওপিসহ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি কমায় ভাঙন তীব্র হচ্ছে। ভাঙনের আশঙ্কায় শুকনো মৌসুমে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে বিওপিটি রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বলেন, নদী ভাঙন রোধে সব ধরনের চেষ্টা করা হবে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়াও ভাঙন রোধে স্থায়ী ও অস্থায়ী দুই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- নদী ভাঙন
