কুমিল্লায় মাজারে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও দুই
.
হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪২ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৪৬
কুমিল্লার হোমনার আসাদপুরে মাজার ও বাড়িঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাত ১১টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই দিন দুপুরে উপজেলার আসাদপুর গ্রাম থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গতকাল সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন– নোয়াগাঁও গ্রামের সোলেমান আহম্মদের ছেলে ইকরাম উল্যাহ ও আসাদপুর গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আব্দুল লতিফ। এর আগে আসাদপুর গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে মো. ইব্রাহিম এবং প্রয়াত মো. আনু মিয়ার ছেলে মো. শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মীর হোসেন জানান, তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার ও চিহ্নিতকরণের জন্য পুলিশের তদন্ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে হামলার পর থেকেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে উপজেলার অন্য মাজারগুলোতে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোমনা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম।
গত বুধবার আসাদপুর গ্রামের আলেক শাহের ছেলে মহসিন ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য পোস্ট করেন। ওইদিনই তাঁর পরিবার তাঁকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। তা সত্ত্বেও পরদিন সকালে উত্তেজিত জনতা
আসাদপুর গ্রামে মহসিনের দাদা কফিল উদ্দিন শাহের মাজার ও বাড়িঘরে আগুন দেয়। ওই এলাকার কালু শাহ, আবদু শাহ ও লেংটা শাহ মাজার ভাঙচুর এবং হাওয়ালী শাহ নামের একটি আস্তানা ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় মাজার ও বসতঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি লুটপাটও হয়।
এ ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক বিরাজ করছে আসাদপুর ইউনিয়নে। পুলিশ বাদী হয়ে দুই হাজার ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে আসাদপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে পুরুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
হোমনা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি, অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান। নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলার আরও কয়েকটি মাজারে আমরা পুলিশ মোতায়েন করেছি।
- বিষয় :
- গ্রেপ্তার
- মাজারে হামলা
- হোমনা
- কুমিল্লা
