বৌদ্ধপল্লীতে সহিংসতা
১৩ বছর পর ফ্রান্সের বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে ছবি শেয়ার করলেন রামুর সেই উত্তম বড়ুয়া
সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের অবস্থান জানান আলোচিত উত্তম বড়ুয়া।
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:০০ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:০৫
কক্সবাজারে রামুর বৌদ্ধপল্লীতে সহিংসতার দীর্ঘ ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ ছিলেন উত্তম বড়ুয়া। হঠাৎ সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের অবস্থান জানালেন তিনি। এ সময় ছবিতে দেখা যায় তিনি পরিবারের সঙ্গে ফ্রান্সের একটি বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
বড়ুয়া অনির্বাণ এন সেন নামের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘দীর্ঘ তের বছর তের দিন পর আমাদের দেখা। জীবনের স্মরণীয় একটা রাত।’
সোমবার রাতে আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সকল কল্যাণমিত্র এবং শুভাকাঙ্খীদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’
‘বড়ুয়া অনির্বাণ এন সেন’ নামের ফেসবুক আইডির পোস্টটি সোমবার রাতে শেয়ার করেন গবেষক ও সাংবাদিক এ কে এম আতিকুজ্জামান। এরপরই তা ভাইরাল হয়। রামুর বৌদ্ধপল্লীতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা আলোচিত সেই উত্তম বড়ুয়াকে ফ্রান্সের বিমানবন্দরে দেখতে পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
সমকালের অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি উত্তম বড়ুয়ার স্ত্রী রিতা বড়ুয়া ও ছেলে আদিত্য বড়ুয়া গোপনে ফ্রান্সে পাড়ি জমান। ফ্রান্সের সময় রোববার রাতে তারা সেখানকার একটি বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে উত্তম বড়ুয়া তাদের অভ্যর্থনা জানান।
তবে এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত হতে উত্তম বড়ুয়ার মা মাধু রাণী বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
মাধু রাণী বড়ুয়া বলেন, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতের ঘটনার পর থেকে উত্তমের কোন সন্ধান নেই। সেই থেকে উত্তমের সঙ্গে পরিবারের কোন ধরনের যোগাযোগ নেই। পুত্রবধূ রিতা বড়ুয়া ও নাতি আদিত্য বড়ুয়ার ফ্রান্সে অবস্থান করা সম্পর্কেও কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ‘উত্তম বড়ুয়াকে স্ত্রী ও সন্তানসহ ফ্রান্সের একটি বিমানবন্দরে দেখতে পাওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রচারে বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে যথাযথ তথ্য নেই। তারপরও পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।’
পুলিশ ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে উত্তম কুমার বড়ুয়ার ফেসবুক আইডি থেকে ধর্ম অবমাননাকর কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনার জেরে সেদিন মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে রামুর ১২টি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধদের ৩৪টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরের দিন অগ্নিসংযোগ করা হয় উখিয়া ও টেকনাফের আরও সাতটি বৌদ্ধবিহার ও হিন্দুমন্দিরেও। এ ঘটনার মামলাগুলো কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন। মামলার ৯৯৫ জন আসামি জামিনে রয়েছেন।
