টাইফয়েডের টিকা নিতে অস্বীকৃতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের মাদ্রাসায় ঢুকতে বাধা
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে জেলা সিভিল সার্জন এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বৈঠক। ছবি: সমকাল
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ২২:১৩ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ২২:১৪
টাইফয়েডের টিকা (টিসিভি) নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন শেরপুর সদর উপজেলার আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর একটি কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা। মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ওই মাদ্রাসায় ছুটে যান সিভিল সার্জন ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। শিক্ষক ও শতাধিক অভিভাবকের সঙ্গে বৈঠক করে টিকা নিতে রাজি করানো হয়। এ ঘটনায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে আলাপ-আলোচনা করলে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, লছমনপুর ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় কওমি প্রতিষ্ঠান তাহমিদুল কোরআন মাদ্রাসা। এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আড়াই শতাধিক।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মোবারকের ভাষ্য, মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা ওই মাদ্রাসায় টিকা দিতে গেলে তাদের ভেতরে ঢুকতে দেননি শিক্ষকরা। অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান তারা।
মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলেন, তারা টিকা দিতে দেবেন না। টিকা দিলে নানা সমস্যা হয়। সমস্যা হলে দায়িত্ব নিতে হবে। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে নমনীয় করতে সক্ষম হন। পরে শতাধিক অভিভাবককে মাদ্রাসায় ডাকা হয়। বৈঠকে বসেন সিভিল সার্জন। তিনি শিক্ষক ও অভিভাবকদের টাইফয়েড টিকার ভালো দিকগুলো তুলে ধরেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা টিকা দিতে রাজি হলে শিক্ষক ও অভিভাবকরা তা মেনে নেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মারুফা আক্তার, এমও-সিএস ডা. আহসানুল হক হিমেল।
ডা. আব্দুল মোবারক বলেন, প্রথমে কিছু শিক্ষার্থী টিকা দেওয়া শুরু করলে কোনো সমস্যা না হওয়ায় আস্তে আস্তে প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকা নেয়।
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিভিল সার্জন, অন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা টিকা দেওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আবু ইউসুফ বলেন, অনেক অভিভাবক টিকা দিতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। কারণ করোনার টিকা দেওয়ার পর গুজব ছড়িয়ে পড়ে টিকা নিলে শরীরে এলার্জিসহ নানা রোগ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের টিকা গ্রহণে রাজি হননি। পরে সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এসে সবাইকে বোঝালে শিক্ষার্থীরা আগ্রহী হয় এবং অভিভাবকদের সামনে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়।
টিকা নেওয়ার পর কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে দেখেছি কারও কোনো সমস্যা হয়নি।’
সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন বলেন, দুই পক্ষই রাজি হচ্ছিল না। রোববার টিকা দেওয়ার প্রথম দিনে মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান অভিভাবকরা রাজি না, তারা ভয় পাচ্ছেন। পরে মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান সবাইকে ডাকবেন তারা। যদি রাজি করাতে পারেন তাহলে টিকা দিতে পারেন। মঙ্গলবার সবার সঙ্গে বসে কথা বলে বোঝালে তারা বুঝতে পারেন টিকা নিরাপদ। এর পর টিকা দেওয়া হয়।
