সিজার করার সময় প্রসূতির মৃত্যু
প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে হাসপাতালে শত শত লোক হাসপাতালে ভিড় জমান। ছবি: সমকাল
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | ০২:৩৭
শেরপুর শহরের নারায়ণপুর এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজার করার সময় প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তবে সুস্থ আছে নবজাতক। শনিবার বিকেলে এভারকেয়ার নামে একটি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আশামনি (২৪) লছমনপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটি এলাকার জাহিদ হোসেনের স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি শহরের নবীনগর এলাকায়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন প্রসূতির স্বজনরা। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে ছুটে আসেন পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম। রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রোগীর স্বজন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল মালিক সমিতির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে আশামনিকে সিজারের জন্য ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর স্বজন হালিমা বেগমের অভিযোগ, ভর্তির সময় সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন আশামনি। চিকিৎসক রক্তের প্রয়োজন বললে রক্তের ব্যবস্থা করা হয়। সিজারে সন্তান জন্মের পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ডেকে নিয়ে যায় এবং বেশ কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এ সময় তিনি বলেন, এত স্বাক্ষর কেন? এর কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান সবাই অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। কিছুক্ষণ পর বলা হয় রোগীর অবস্থা ভালো না। পরে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এ ঘটনা জানাজানি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত লোক হাসপাতালে ভিড় জমান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেয়।
আশামনির ননদ মনিরা বেগমের ভাষ্য, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লুৎফর রহমান আশামনিকে মেরে ফেলেছেন। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের ব্যাপারে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা গা ঢাকা দিয়েছেন।
শেরপুর সদর থানার ওসি জুবায়দুল আলম জানান, উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করছেন তারা। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- শেরপুর
- প্রসূতির মৃত্যু
