ছয় মাসেও ঘর পাননি ভাস্কর মানবেন্দ্র
পুড়ে যাওয়া ঘর ও স্টুডিওর সামনে ভাস্কর মানবেন্দ্র ঘোষ। সম্প্রতি তোলা সমকাল
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার মোটিফ তৈরির ঘটনায় গত ১৫ এপ্রিল রাতে ভাস্কর মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে তাঁর স্টুডিওসহ চিত্রকর্ম পুড়ে যায়। এই ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয় সারাদেশে। সরকারের পক্ষ থেকে তখন ভাস্কর মানবেন্দ্র ঘোষের পুড়ে যাওয়া ঘর ও স্টুডিও পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার ছয় মাস পেরোলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
গত রোববার মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা গড়পাড়া ঘোষের বাজারে মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছয় মাস আগে আগুনে ভস্মীভূত ঘরের জিনিসপত্র ও তাঁর চিত্রকর্ম ওইভাবেই পড়ে রয়েছে।
ভাস্কর মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, চলতি বছর পহেলা বৈশাখের দু-তিন দিন আগে থেকেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখাবয়ব তৈরি করেছেন। মানবেন্দ্র তাঁর ফেসবুক পেজে বিষয়টি পরিষ্কার করেন, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখাবয়ব তৈরি করেননি। শোভাযাত্রার জন্য তিনি একটি বাঘের মোটিফ তৈরি করেছেন। এর পরও তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এতে গত ১৫ এপ্রিল রাতে তিনি মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি জিডি করেন। রাত ৩টার দিকে তাঁর বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। এতে তাঁর ঘরের আসবাবসহ ৩০টি শিল্পকর্ম ভস্মীভূত হয়।
১৭ এপ্রিল মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মানোয়ার হোসেন মোল্লা এক ব্রিফিংয়ে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে মানবেন্দ্র ঘোষের পুড়ে যাওয়া ঘরটি তাঁর ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
মানবেন্দ্র ঘোষ সমকালকে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন মাস আগে তাঁর পুড়ে যাওয়া ঘরসহ স্টুডিওর একটি ডিজাইন চেয়ে নেওয়া হয়। ঘর কবে নির্মাণ করা হবে তা কেউই স্পষ্ট করে বলেননি।
এ ছাড়া তিন মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে সহযোগিতা করা হবে মর্মে একটি আবেদনে স্বাক্ষর নেন। সেটিরও কোনো অগ্রগতি নেই।
ঘর পুড়ে যাওয়ার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়।
মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে সবকিছু ভস্মীভূত হওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। ঘটনার পর দুই মাসের বেশি সময় পুলিশ বাড়ি পাহারা দিয়েছিল। পুলিশ প্রশাসনের কথায় নিরাপত্তার জন্য বাড়ির পূর্ব দিকে একটি দেয়াল নির্মাণ ও ৮টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
ঘরসহ স্টুডিও পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়। পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে তাদের চেনেন না মানবেন্দ্র ঘোষ। মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এসএম আমানউল্লাহ বলেন, ভাস্কর মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন সময়ের ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান। অন্যরা জামিনে রয়েছেন। তদন্ত শেষ হলে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মানবেন্দ্র ঘোষের চাহিদা অনুযায়ী ঘরসহ স্টুডিওর একটি ডিজাইন পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে, তবে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- ঘর তৈরি
