ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার
১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে পরীক্ষার্থীকে দেওয়া হয় ডিভাইস
চক্রটি ঢাকা থেকে পরিচালিত, গ্রেপ্তার ৩
গতকাল শনিবার সকালে দিনাজপুরে খাদ্য বিভাগের উপপরিদর্শক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার করার সময় কৃষ্ণ কান্ত রায় নামে এক পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। ছবি: সমকাল
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ২২:৪২
দিনাজপুরে খাদ্য বিভাগের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিভাইস ব্যবহারের চক্রটি ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়। ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে এই ডিভাইস সরবরাহ এবং এর মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে বলে পরীক্ষার্থীকে জানানো হয়। এই চক্রটি স্বাস্থ্যের টেকনিশিয়ান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাতেও এমন কাজ করেছে।
রোববার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলার পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন। তিনি জানান, চক্রটির তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পেছনে যারা জড়িত তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার সকালে দিনাজপুরে খাদ্য বিভাগের উপপরিদর্শক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার করার সময় কৃষ্ণ কান্ত রায় নামে এক পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই শহরের কেরি মেমোরিয়াল স্কুল কেন্দ্র থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
আটক কৃষ্ণ কান্ত রায় (২৫) বিরল উপজেলার সিঙ্গুল পূর্ব রাজারামপুর গ্রামের বাসিন্দা। দিনাজপুর শহরের ফকিরপাড়া এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এর সঙ্গে জড়িত আরও দুই শিক্ষককে আটক করা হয়। তারা হলেন, জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার বাসিন্দা খর সুন্দর রায় ও মামুন। তারা উপজেলার ৭ নং আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের শঙ্খ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গ্রেপ্তার মামুন জালিয়াতির মাধ্যমেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে চাকরি নেন।
পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেন, পরীক্ষার হলে কৃষ্ণ কান্ত পরপর কয়েকবার কাশি দিতে থাকেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়। পরে তাঁর শরীর থেকে দুটি যোগাযোগ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। একটি ক্ষুদ্রাকৃতির গোল ডিভাইস কানের ভেতরে বিশেষভাবে স্থাপন করা ছিল এবং অন্যটি স্যান্ডো গেঞ্জির সঙ্গে বিশেষভাবে আটকানো ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এই ডিভাইস সরবরাহ এবং এর মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। খর সুন্দর রায়ের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হয়। পরীক্ষায় এই জালিয়াতির ও প্রশ্নপত্রের ফাঁসের ঘটনাটি ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়। একটি চক্র চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়।
মারুফাত হুসাইন জানান, ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছে। রোববার বিকেলে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। চক্রটির মাধ্যমে যাদের চাকরি হয়েছে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- প্রশ্নফাঁস
- দিনাজপুর
