ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চসিকের সিইওকে মেয়রের শোকজ, গৃহকর নিয়ে তদন্তে অবহেলা

চসিকের সিইওকে মেয়রের শোকজ, গৃহকর নিয়ে তদন্তে অবহেলা
×

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | ০২:৩২

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গৃহকর নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে অবহেলায় গতকাল সোমবার এ নোটিশ দেওয়া হয়। তাঁকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সিইও শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি নোটিশ পাননি। করপোরেশনের ইতিহাসে কোনো মেয়র এর আগে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেননি বলে জানিয়েছেন তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তাদের মতে, এটি নজিরবিহীন।

নোটিশের অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালককে পাঠানো হয়েছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, তৌহিদুল ইসলাম গত ৬ সেপ্টেম্বর উচ্চতর প্রশিক্ষণে যান। তাঁর অনুপস্থিতিতে সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন ভারপ্রাপ্ত সিইওর দায়িত্ব পান। প্রশিক্ষণ শেষে গত বুধবার তৌহিদুল মেয়র বরাবর যোগদানের আবেদন জমা দেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তা গৃহীত হয়নি।

মেয়রের সই করা শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুটি প্রতিষ্ঠানের গৃহকর নির্ধারণে অনিয়ম হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক মূল্যায়ন ধরা হয়েছিল ২৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং অন্যটির ২৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। পরে ঘষামাজা করে ‘২’ মুছে যথাক্রমে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ও ৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেখানো হয়। এতে করপোরেশন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৮ মে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা হয়। চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিইও কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি। দায়ীদের শনাক্তে পদক্ষেপ নেননি। এমনকি অনিয়মিত গৃহকর বাতিল করে নতুন করে তা নির্ধারণের উদ্যোগ নেননি।
নোটিশে আরও বলা হয়, তৌহিদুল প্রশিক্ষণের জন্য ছুটিতে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সিইও দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘তিন বছর তৌহিদুল ইসলাম সিইওর দায়িত্বে ছিলেন। গৃহকর অনিয়মের তদন্তে আগ্রহ দেখাননি। কমিটি করা হলেও তিনি প্রতিবেদন আদায় করেননি। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পাওয়ার এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করেছেন।’

চসিক সূত্রে জানা গেছে, মধ্য হালিশহরের এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং পতেঙ্গার লালদিয়ার চরের ইনকনট্রেড লিমিটেডের গৃহকর নির্ধারণে এ অনিয়ম ঘটে। এ ঘটনায় রাজস্ব বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×