রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রেললাইন অবরোধ
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চার দফা দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সমকাল
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১১:২৫ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৪:০৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে আন্তঃনগর ট্রেনে টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) ও রেলকর্মীদের ঘুষ গ্রহণের প্রতিবাদ করায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চার দফা দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা দুটি আন্তঃনগর ও একটি মেইল ট্রেনের চলাচলে সূচি বিপর্যয় হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফুরকান উদ্দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেসে ভ্রমণের সময় তিনি দেখেন, টিকিট পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা টিটিই ও কয়েকজন রেলকর্মী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছেন, কিন্তু এর বিপরীতে কোনো সরকারি রসিদ বা টিকিট দিচ্ছেন না। তিনি এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত টিটিই সাব্বিরসহ কয়েকজন তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
ফুরকানের দাবি, একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ট্রেনের বগির স্টিলের মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তিনি আহত হন এবং তার চশমা ভেঙে যায়। পরে তাকে একটি ফাকা বগিতে নিয়ে দরজা বন্ধ করে মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্রও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- অভিযুক্ত টিটিইকে শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির করা, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তার স্থায়ী বহিষ্কার, ভুক্তভোগীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রেল কর্তৃপক্ষের বাদী হয়ে মামলা করা, আহত শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, রেলের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় একজন শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তবে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম) হাবিবুর রহমান বলেন, পদ্মা এক্সপ্রেসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের অবরোধে রাজশাহী থেকে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন-সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস এবং মহানন্দা মেইল ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।