মোমবাতির আলোয় আলোকিত পাহাড়
বৃহস্পতিবার রাতে সাধু লিওর ধর্মপল্লীতে ফাতেমা রাণীর তীর্থ উৎসবে আলোক শোভাযাত্রা বের করেন ভক্তরা। ছবি: সমকাল
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:২৩
মোমবাতি জ্বালিয়ে মনের বাসনা পূরণ ও পূণ্য লাভের আশায় প্রায় দুই কিলোমিটার উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দেন হাজারো ভক্ত। আলোকিত উয়ে ওঠে পাহাড়। আলোক শোভাযাত্রার সময় ভক্তদের কণ্ঠে সমবেতভাবে উচ্চারিত হয়- ‘হে ঈশ্বর জননী, আমরা পাপী, আমাদের তুমি ক্ষমা করো’। একই সঙ্গে জপমালা হাতে প্রার্থনায় মগ্ন হন ভক্তরা।
তাদের গন্তব্য ছিল, মা মারিয়ার আশীর্বাদপ্রাপ্ত স্থান নালিতাবাড়ী গারো পাহাড়ের পাদদেশে বারমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লি। গত বৃহস্পতিবার এখানে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী খ্রিস্টভক্তদের ধর্মীয় বাৎসরিক তীর্থোৎসব শেষ হয় শুক্রবার।
আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও বারমারী মিশনের পালপুরোহিত রেভারেন্ড ফাদার তরুণ বনোয়ারী জানান, হাজারো ভক্ত ও পূণ্যার্থীর উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে তীর্থোৎসবের উদ্বোধন করেন ভাটিকান সিটির দূত কেভিন এস. র্যান্ডেল। রাত সাড়ে ৮টার দিকে অনুষ্ঠিত হয় আলোক শোভাযাত্রা। রাত ১১টার দিকে মা মারিয়ার মূর্তিকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয় আরাধনা। রাত ১২টার দিকে নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশিজাগরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের ধর্মীয় কার্যক্রম। এরপর শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে জীবন্ত ক্রুশের পথ অতিক্রম এবং সকাল ১০টার দিকে মহাখ্রিস্টযোগের মধ্য দিয়ে এবারের তীর্থোৎসব সমাপ্ত হয়।
আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, বারমারি সাধু লিওর ধর্মপল্লিতে ১৯৯৮ সাল থেকে ফাতেমা রানীর তীর্থ উৎসব হচ্ছে। ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এই ধর্মপল্লিটি। প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় ফাতেমা রানীর তীর্থ উৎসব। শুধু শেরপুর নয়, দেশ-বিদেশের প্রায় লাখো পুণ্যার্থী অংশ নেয় এই তীর্থযাত্রায়। তীর্থ উৎসবে মহাখ্রিস্টযাগ, গীতি আলেখ্য, আলোর মিছিল, নিশিজাগরণ, নিরাময় অনুষ্ঠান, পাপ স্বীকার, জীবন্ত ক্রুশের পথসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
ভক্তদের আগমন বাড়ায় বর্তমানে এই তীর্থস্থানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৮ ফুট উচ্চতার ফাতেমা রানীর মা মারিয়ার মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি খ্রিস্টভক্তদের জন্য একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থান। এখানে এসে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি জাগরিত করে প্রার্থনা করেন।
সাধু লিওর ধর্মপল্লির পাল পুরোহিত তরুণ বনোয়ারি জানান, এবারের ২৫তম তীর্থোৎসবে হাজারো খ্রিস্টভক্ত অংশ নিয়েছেন। এবারের উৎসবের মূল সুর ‘আশার তীর্থযাত্রী, ফাতেমা রানী মা মারিয়া’। সবমিলিয়ে এবারের আয়োজন তাৎপর্যপূর্ণ। আলোক শোভাযাত্রা তাদের বিশ্বাসের প্রতীক। মোমবাতির আলো হাতে নিয়ে পাহাড়ি পথে হেঁটে চলা হাজারো ভক্তের দৃশ্য প্রমাণ করে, যত বাধাই আসুক মা মারিয়ার কৃপায় আলোর পথে এগিয়ে যাবেন তারা।
এদিকে তীর্থ স্থানের বাইরে বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে বারোয়ারী মেলা। তীর্থ উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
গত বৃহস্পতিবার রাতের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান ও পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম।
- বিষয় :
- মোমবাতি প্রজ্বালন
- পাহাড়
