৭ মাস পর সিইউএফএলে উৎপাদন শুরু
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএলে। ছবি: সমকাল
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫ | ১০:১৯
দীর্ঘ ৭ মাস গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতদিন বন্ধ থাকার কারণে দৈনিক ৩ কোটি টাকার সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা থেকে কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয় বলে জানান সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান।
জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল থেকে সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেডিসিএল)। ফলে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কারখানায় দৈনিক ৩ কোটি টাকার সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। গত (১৯ অক্টোবর রোববার বেলা ১১টা থেকে গ্যাস সরবরাহ পায় সিইউএফএল। কারখানার যান্ত্রিক প্রক্রিয়া শেষে শনিবার দিবাগত রাত থেকে ফের উৎপাদন শুরু হয়।
সিইউএফএল সূত্র জানায়, পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর এ কারখানায় দৈনিক ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। গ্যাস–সংকট ও যান্ত্রিক নানা সমস্যা থাকায় গত অর্থবছর কারখানাটিতে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা বছরে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন। তার মধ্যে সিইউএফএলসহ বিসিআইসির অন্যান্য কারখানা প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে। অবশিষ্ট ১৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়।
১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর জাপানের কারিগরি সহায়তায় কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় সার কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করে সরকার। কারখানা চালু হওয়ার সময় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক ৫ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে দৈনিক ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে। পাশাপাশি বার্ষিক ৩ লাখ ১০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন করতে পারে সিইউএফএল।
কারখানার এমডি মিজানুর রহমান বলেন, গত ১৯ অক্টোবর থেকে গ্যাস সরবরাহ পায় সিইউএফএল। গত রাত সাড়ে ৩টা থেকে কারখানায় এখন পুরোদমে ইউরিয়া উৎপাদন চলছে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ না হলে এবং কোনোপ্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা না দিলে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
- বিষয় :
- উৎপাদন
- গ্যাস
- সার কারখানা
- চট্টগ্রাম
