ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

“চলো জি ভাই, হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই”

“চলো জি ভাই, হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই”
×

পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে সমাবেশ করেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার শিবগঞ্জ সরকারি মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে সমকাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিশাল সমাবেশ করেছে বিএনপি। বুধবার বিকেলে শিবগঞ্জ সরকারি মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এই আয়োজনে অংশ নেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। 
দুপুর থেকেই নেতাকর্মীরা মাঠে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়ে মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসেন। মাঠে জায়গা না পেয়ে তারা স্কুলের বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। তাদের অনেকের হাতে ধানের গুচ্ছ ছিল। উপস্থিত নেতাকর্মীরা “চলো জি ভাই, হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই” পদ্মা বাঁচাতে আমারা ঐক্য গড়ি, স্লোগান দিতে থাকেন। 

এক মঞ্চে ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের সাবেক এমপি ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। বিএনপির ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিটি নির্বাচনী প্রচার সভায় পরিণত হয়। সমাবেশে বক্তারা নদী ও পানি সম্পদ সংরক্ষণ, ন্যায্য পানিবণ্টন, নদীর অবৈধ ব্যবহার এবং কীভাবে এটি স্থানীয় মানুষের জীবিকাকে প্রভাবিত করে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। 

এ সময় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ আসনের দলের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, ২ আসনের প্রার্থী সাবেক এমপি ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সহসম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম এবং ৩-আসনের প্রার্থী হারুনুর রশিদ পদ্মার উজানে ফারাক্কায় বাঁধ নির্মাণ করে গঙ্গার পানি একতরফা প্রত্যাহারের প্রতিবাদ জানান। তারা সরকারের কাছে পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। 
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি  হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া। প্রধানবক্তা ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম। 

জনসভায় প্রধান অতিথি হারুনুর রশিদ বলেন, পদ্মা বাঁচাও আন্দোলনে জাতীয় জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সমাবেশের আয়োজন। ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে পদ্মার উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এতে পানি সংকট সৃষ্টি করেছে। ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি থাকলেও আশানুরূপ ফল পাইনি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু অকাল মৃত্যুর কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। ভারতীয় এ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে  জনমত গড়ে তুলতে হবে। 

এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বলেন, দলটি বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে।  অতীতে তারা জাতীয় নির্বাচনে কতটি আসন পেয়েছে আমরা সবাই জানি। দলটি বাংলাদেশে মুনাফিক তৈরির কারখানা। তারা ইসলামী জলসার নামে দলীয় জলসা করছে। মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের এসব কার্যক্রম চালাতে বাধা দিতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমেই তাদের দাঁত ভাঙা জবাব দিতে হবে। 
পদ্মার উজানে ফারাক্কায় বাঁধ নির্মাণ করে গঙ্গার পানি একতরফা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে লংমার্চের ডাক দিয়েছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দেশপ্রেমিক মানুষ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সেদিন অগণিত জনতার প্রতিবাদের প্রতিধ্বনি দিল্লিতে পৌঁছেছিল।

দীর্ঘ ৫০ বছর পর একই দাবিতে বিএনপি এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর আগে ২ নভেম্বর পদ্মা বাঁচাও দাবিতে জেলা শহরের শহীদ শাটু হল অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৭ নভেম্বর ভোলাহাটে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের আধিপত্যবাদ ও পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদে বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

আরও পড়ুন

×