ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সিলেট

৩৭ নেতার মুক্তি দাবিতে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনে স্মারকলিপি

৩৭ নেতার মুক্তি দাবিতে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনে স্মারকলিপি
×

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে বাংলাদেশি ওয়ার্কার্স কাউন্সিলের (যুক্তরাজ্য) নেতারা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | ২২:৪৫

সিলেটে অটো শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমনসহ ৩৭ জন নেতার মুক্তি এবং সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশি ওয়ার্কার্স কাউন্সিল (যুক্তরাজ্য) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।

গতকাল বুধবার স্মারকলিপিটি যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন হাইকমিশনের প্রথম সচিব।

ওয়ার্কার্স কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার বিন আলী ও সভাপতি হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনে বাংলাদেশের জনগণ গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছিল। কিন্তু প্রায় দেড় বছর পর দেখা যাচ্ছে, বৈষম্যহীন সমাজের যে প্রতিশ্রুতি অন্তর্বর্তী সরকার দিয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং সরকার এখন তথাকথিত রাজনৈতিক দরকষাকষি ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন, রুটি-রুজি ও ন্যায্যতার প্রশ্ন উপেক্ষিত হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, সরকার সমাজে ধর্মীয়, জাতিগত ও নাগরিকদের মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, আর তারই ফলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, দারিদ্র্য বিমোচনের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা এখন শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ ও গরিব জনগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবি দমন করছেন। আগের সরকারের মতোই বর্তমান সরকারও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি একই উদাসীনতা দেখাচ্ছে। বিশেষ করে অটোরিকশাচালক ও ইজিবাইক চালকদের ওপর নিপীড়ন চলছে। এই শ্রেণির শ্রমিকদের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ, যারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সিলেট শহরে এই শ্রমিকদের বৈধ সমাবেশে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ হামলা চালিয়েছে, অফিসে তল্লাশি দিয়েছে এবং অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমনসহ ৩৭ জন শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে সিলেটজুড়ে প্রতিরাতে পুলিশি অভিযান চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

ওয়ার্কার্স কাউন্সিল প্রধান উপদেষ্টার প্রতি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে এবং সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তিদানের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

×