ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রামেক হাসপাতাল

ঘুসি মেরে আনসার সদস্যের নাক ফাটালেন অ্যাম্বুলেন্সচালকরা

ঘুসি মেরে আনসার সদস্যের নাক ফাটালেন অ্যাম্বুলেন্সচালকরা
×

ছবি: সমকাল

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | ১৯:৫১

রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঘুসি মেরে ফিরোজ সরকার নামে এক আনসার সদস্যের নাক ফাটিয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন অ্যাম্বুলেন্সচালককে আটক করে।

আটক তিনজন হলেন– ভাড়ায় রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সচালক রজব, আব্দুল্লাহ ও মারুফ। তবে সিন্ডিকেটের মূল হোতা আল মামুন রাব্বুল, বাদশা, ডালিম ও আলিম গাঢাকা দিয়েছেন।

আনসার সদস্যরা জানান, দুপুরে হাসপাতালের ৪ নম্বর ফটকে দায়িত্ব পালন করছিলেন ফিরোজ সরকার। এই ফটক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ নিষেধ। তার পরও একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢুকে পড়ে। ফিরোজ বাধা দিলেও জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে রোগী তুলতে শুরু করেন। জোর করে ঢুকে পড়ার কারণ জানতে চাইলে ফিরোজের সঙ্গে তর্ক শুরু করেন ওই চালক। তখন পাশ থেকে আরও এক চালক এসে ঘুসি মারলে ফিরোজের নাক ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। অন্য আনসার সদস্যরা এসে দুজনকে ধরে ফেললেও অন্য অ্যাম্বুলেন্সচালকরা এসে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, হাসপাতাল ঘিরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকদের সিন্ডিকেট সক্রিয়। এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন আল মামুন রাব্বুল, বাদশা, ডালিম ও আলিম। থানা পুলিশ ও ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে কাজ করে। রোগী ও লাশ পরিবহনের নামে জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। তাদের কাছে সবাই জিম্মি হয়ে থাকেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম শামীম আহম্মদ বলেন, বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্সচালকরা অত্যন্ত বেপরোয়া। তাদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধের কোনো বালাই নেই। এ চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং র্যারব-৫ এর অধিনায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবু এমন ঘটনা ঘটল। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অ্যাম্বুলেন্সটি পুলিশ জব্দ করেছে।

আরও পড়ুন

×