বরাদ্দ না নিয়েই বসবাস রসিদ ছাড়া ভাড়া
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি কোয়ার্টার নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ না দিয়ে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বৈধ রসিদ বা কোনো ধরনের নথি ছাড়াই অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ভাড়ার টাকা। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি কোয়ার্টার চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। কিন্তু সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ফাতেমা আক্তারকে মাসিক ভাড়া দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি ভাড়াটিয়াদের কোনো রসিদ বা নথিপত্র (ডকুমেন্ট) দিচ্ছেন না।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, একটি সিন্ডিকেটকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে অনেকেই নামমাত্র ভাড়ায় কোয়ার্টারে থাকছেন। যার ফলে মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে থাকা তিনতলা আবাসিক ভবনে ছয়টি কোয়ার্টার রয়েছে। খালি পড়ে থাকা এসব কোয়ার্টার দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে ভাড়া দিয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ফাতেমা আক্তার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভাড়াটিয়ার ভাষ্য, তারা নিয়মিত ভাড়া দিলেও কোনো ডকুমেন্ট বা রসিদ দেওয়া হয় না। একই সঙ্গে বিষয়টি যেন কাউকে না জানানো হয়, এ বিষয়ে তাদের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, যেসব পরিবার ওই কোয়ার্টারে বসবাস করছেন, তাদের অধিকাংশের নামে সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ নেওয়া হয়নি। কোয়ার্টার বরাদ্দ না নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে ভাড়া হিসেবে কিছু অর্থ দিচ্ছেন। এতে নামমাত্র ভাড়ায় আধুনিক সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করেও বেতনের পাশাপাশি বাসা ভাড়া বাবদ নির্ধারিত টাকা পাচ্ছেন সুবিধাভোগীরা।
নাম না প্রকাশের শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে ভাড়া থাকা এক ব্যক্তি বলেন, তারা প্রতি মাসের বাসা ভাড়ার টাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ফাতেমার হাতে দিয়ে থাকেন। কোনো ডকুমেন্ট ছাড়া বা বিনা রসিদে আদায় করা এই টাকা কোন খাতে ব্যয় হয়, সেটা তিনি জানেন না।
এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৎস্য চাষের উপযোগী একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরটি লিজ দিয়ে আগে প্রতি বছর ২৫-৩০ হাজার টাকা রাজস্ব পেত সরকার। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরটি লিজ না দিয়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এতে প্রতিবছর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অভিযোগ রয়েছে, মাঝেমধ্যে আত্মীয়স্বজন নিয়ে পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করেন হিসারক্ষণ কর্মকর্তা।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ফাতেমা আক্তার বলেন, যারা কোয়ার্টারে থাকেন, সবাই সরকারি বরাদ্দ নিয়ে থাকেন। হাতে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পুকুরের লিজ দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ‘স্যার’ (উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) ভালো জানেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ্ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এত বড় একটি পুকুর লিজ না দেওয়ার কারণে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পুকুরটির উর্বরতা কমছে। পুকুরটি মাছ চাষের আওতায় আনা হলে উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, যারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে থাকে, তাদের বেতন অনুযায়ী বাসা ভাড়া কেটে নেওয়া হয়। পুকুরের লিজের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুকুরটির লিজের বিষয়ে তিনি কোনো ডকুমেন্ট পাননি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, সরকারি বেতনভুক্ত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিনামূল্যে সরকারি কোয়ার্টারে থাকার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
