ডিরেক্ট রিলিফের ৩৬ কোটি টাকার ইনজেকশন পেল রামেক হাসপাতাল
ছবি: সমকাল
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫ | ২১:২৯
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল এবার আমেরিকার দাতব্য সংস্থা ডিরেক্ট রিলিফ-এর কাছ থেকে পেয়েছে ৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকার অ্যাডালিমুমাব ইনজেকশন। প্রতিটি ইনজেকশনের বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা, যা এবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে বাত রোগে আক্রান্ত রোগীদের।
বুধবার ওষুধ ঢাকায় পৌঁছে এবং শুক্রবার সকালে রামেক হাসপাতালে আসে ৯০০টি ইনজেকশন।
অ্যাডালিমুমাব একটি বায়োলজিক ওষুধ, যা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস, জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন অটোইমিউন রোগে দীর্ঘস্থায়ী উপশম দেয়। চিকিৎসকদের মতে, বায়োলজিক ওষুধ হওয়ায় এর উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে ইনজেকশন দেওয়ার আগে হেপাটাইটিস বি, সি ও যক্ষার স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক।
রামেক হাসপাতালের সঙ্গে ডিরেক্ট রিলিফের সম্পর্ক গড়ে ওঠে চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ান-এর উদ্যোগে। ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের গবেষণায় যুক্ত থাকার সুবাদে তাঁর কাজ নজরে আসে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির। এরপর ডিরেক্ট রিলিফ তাদের প্রথম অনুদান হিসেবে পাঠায় আড়াই হাজার ভায়াল অ্যাল্টেপ্লেস, যার মূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা। স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের সময় রক্তজমাট দূর করতে ব্যবহৃত এই ওষুধের ৬০ শতাংশ ইতোমধ্যে রোগীদের প্রয়োগ করা হয়েছে।
দুই মাস আগে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ বাত রোগীদের জন্য অ্যাডালিমুমাব ইনজেকশন দেওয়ার অনুরোধ জানালে ডিরেক্ট রিলিফ তাতে সাড়া দেয়। পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেন।
ডা. আজিজুল জানান, ইনজেকশনটি অত্যন্ত কার্যকর। তবে তা নির্দিষ্ট রোগীদের স্ক্রিনিং শেষে তা প্রয়োগ করা হবে। মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত থাকায় নির্ধারিত রোগীদের এ সময়ের মধ্যেই বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন, ‘ডিরেক্ট রিলিফ থেকে আগেও আমরা প্রায় ১৭ কোটি টাকার ওষুধ পেয়েছি। হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের এসব ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এবার বাতের রোগীদের জন্য ৩৬ কোটি টাকার ওষুধ পেলাম। এই অনুদান রামেক হাসপাতালে জটিল বাত রোগীদের জন্য চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।’
পরিচালক জানান, মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক আজিজুল হক আজাদ রোগী দেখবেন। কোন রোগীর ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা যাবে, সে সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন। অনেক দিন ধরে বাতে ভুগছেন, ওষুধে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে না–এমন রোগী এ ইনজেকশন নিয়ে দীর্ঘ সময় ভালো থাকতে পারবেন।
