সড়কের ওপর চাপ কমাতে যাত্রীর ২০ শতাংশ রেল ও নৌপথে নিতে হবে: উপদেষ্টা ফাওজুল
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান- ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০২:৫৩
সড়কের ওপর চাপ কমাতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ২০ শতাংশ রেল ও নৌপথে নিয়ে আসতে হবে উল্লেখ করে রেল, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, মহাসড়কের ওপর চাপ কমাতে হবে। শুধু ৮ লেন থেকে ১০ লেন করলে যানজট কমবে, এই ধারণা ভুল। সড়কের ওপর চাপ কমাতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ২০ শতাংশ রেল ও নৌপথে নিয়ে আসতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে সড়ক ভবনে সড়ক বিভাগ ও রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি রেলে ভয়ঙ্করকর দুর্নীতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। এ সময় রেলওয়ে ও সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রেলওয়ের দুর্নীতির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘রেলে ভয়ঙ্ককর দুর্নীতি করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক পদ সৃষ্টি করে এই দুর্নীতি পথ তৈরি করা হয়েছে। বড় বড় প্রকল্প নিয়েছে যা গুরুত্বহীন। মানুষের কোনো কাজে আসে না। এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে, চট্টগ্রাম দোহাজারী রেললাইনে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। রেলওয়ের হাতে যথেষ্ট লোকোমোটিভ নেই, কোচ নেই। এগুলোর পেছনে দুর্নীতি গেঁথে ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার অনেক বড় ৩০-৪০ কিলোমিটার রেলপথ করল, কিন্তু ট্রেন চলে সারাদিনে একটা। আর লোক যাতায়াত করে ১৫-২০ জন। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছি।’
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ খাতে মাল্টিমডেল নীতি অনুসরণ করব। আমরা যখন রোড দেখি তখন শুধু রোড দেখি, কিন্তু আমরা এখন আর সেভাবে দেখব না। রোড, রেললাইন, ইনল্যান্ড ওয়াটার সবগুলোকে একসঙ্গে দেখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে এসব ‘ফরমায়েশি’ রাস্তা হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইনে একটি রাস্তা করেছেন। সেখানে মৎস্য সম্পদ, প্রাণিসম্পদ, কৃষি, পরিবেশ সব ধ্বংস করেছে। সেখানে বন্যা সৃষ্টি করে দিয়েছে। এতো বড় একটা বিনিয়োগ অথচ কোনো গাড়ি চলে না। শুধু কিছু টেম্পু চলে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করা হয়েছে।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘এই যে পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু হলো সবার আশা ছিল সেখানে অনেক শিল্পায়ন হবে। আসলে কোনো শিল্প কি হয়েছে। এরকম কারও নির্দেশনার রাস্তা আর হবে না। যেমন মাতারবাড়িতে একটা রাস্তা নেওয়া হয়েছে, প্রতি কিলোমিটার ব্যয় ৪৭৬ কোটি টাকা। এগুলোতো আমরা বহন করতে পারব না। আমাদেরকে ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি দূর করতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ কমাতে হবে।’
এ সময় তিনি কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং বর্তমান সরকারের সময়ে ভালো কিছু দৃশ্যমান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
- বিষয় :
- ফাওজুল কবির খান
- চট্টগ্রাম
