ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে
×

ক্ষুব্ধ লোকজন ওই শিক্ষককে মাদ্রাসায় অবরুদ্ধ করে রাখে

রংপুর অফিস

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২০:১০

রংপুরের গঙ্গাচড়ার একটি মাদ্রাসায় ১৯ শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক হাফেজ সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে অভিভাবকসহ বিক্ষুব্ধ লোকজন তাঁকে মারধর ও অবরুদ্ধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে এই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এক অভিভাবকের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলার চর ইশোরকোলে (আশ্রয়ণ) আহমাদিয়া নূরুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে। শনিবার এক অভিভাবক এ নিয়ে গঙ্গাচড়া থানায় মামলা করেন। শিক্ষার্থীদের পরিবারসূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে অসুস্থ বোধ করায় এবং ভয়ে মাদ্রাসায় যাচ্ছিল না নিপীড়নের শিকার তৃতীয় শ্রেণির এক মেয়ে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে শিক্ষক সাজেদুলের অপকর্মের বিষয়। গত দুই মাসে ১৯ শিক্ষার্থীকে নিপীড়ন করেন সাজেদুল ইসলাম। বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন তিনি। নিপীড়নের শিকার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, তাদের ক্লাসে ১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়ে পাঁচজন। তাদের সবাইকে নির্যাতন করা হয়েছে। 

শনিবার সকালে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, সব কক্ষ তালাবদ্ধ। বাইরে উত্তেজিত নারী-পুরুষের ভিড়। স্থানীয়রা জানান, ২০০৩ সালে স্থাপিত মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে হেফজ শাখায় ২৫ জন শিক্ষার্থী (বালক) আবাসিক। এ ছাড়া নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ৮০ জন (ছেলে-মেয়ে) পড়াশোনা করে। শিক্ষক সাজেদুল ইসলাম কক্ষ ঝাড়ু দেওয়াসহ নানা কৌশলে ডেকে একেকদিন একেক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন করতেন। তাঁর হুমকির ভয়ে এতদিন শিশুরা মুখ খোলেনি। গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি প্রকাশ পেলে ক্ষুব্ধ হন অভিভাবকরা। 

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোথা থেকে কী হচ্ছে এখনই বলা যাচ্ছে না। এতদিন কিচ্ছু শুনলাম না, হঠাৎ করে ১৯ শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের খবরে হতবাক হয়েছি। তবে বিষয়টি সঠিক হলে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’ মাদ্রাসার সভাপতি ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া বলেন, মামলা হয়েছে, আইনের মাধ্যমে অপরাধীর বিচার হোক। 

শনিবার সন্ধ্যায় গঙ্গাচড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ সরকার জানান, শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 
 

আরও পড়ুন

×