হৃদযন্ত্রে ছিদ্র
শিশু আবদুল্লাহর চিকিৎসা থেমে আছে অর্থাভাবে
ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৪:৩৬
‘ছেলে আমার বাঁচতে চায়; কিন্তু আমি তো অসহায়! এত টাকা পাব কোথায়?’ গতকাল মঙ্গলবার কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন হৃদযন্ত্রে দুটি ছিদ্র নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু আবদুল্লাহর দরিদ্র বাবা হাসান আলী। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পূর্ব কৃষ্টপুর গ্রামের আট বছর বয়সী আবদুল্লাহ জন্ম থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জরুরি অস্ত্রোপচার করা না হলে আবদুল্লাহর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাতে খরচ হবে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। কিন্তু গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য দরিদ্র হাসান আলী বা তাঁর পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন সম্ভব নয়।
হাসান আলী বর্তমানে সিরাজগঞ্জ পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানিতে চাকরি করছেন। সংসারে রয়েছে স্ত্রী, সন্তান, মা ও বাবা। তাঁর আয়েই চলে সংসার। এর ওপর যুক্ত হয়েছে সন্তানের চিকিৎসা খরচ।
হাসান আলী জানান, আবদুল্লাহর দিন কাটছে দুঃসহ যন্ত্রণায়। বুক ধড়ফড় করে, নিঃশ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট হয়, খেতে পারে না স্বাভাবিকভাবে, রাতে ঘুমাতেও পারে না। জন্মের পর থেকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফয়সাল ফারুখের কাছে চিকিৎসা করে আসছেন। বর্তমানে সমস্যা বেশি হওয়ায় ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সন্তোষ কুমার সাহার কাছে যান।
তিনিই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, আবদুল্লাহর অবস্থা দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে হাসান আলী সন্তানের জীবন বাঁচাতে সমাজের সামর্থ্যবানদের কাছ থেকে সাহায্য কামনা করেছেন।
কালাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজমা বেগম বলেন, শিশু আবদুল্লাহর বাবা সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করেছেন। প্রক্রিয়ার শেষে বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে। তাছাড়া তিনি বিত্তবানদের সহানুভূতি ও সাহায্য করার আহ্বান জানান।
- বিষয় :
- হাসপাতালে ভর্তি
- জয়পুরহাট
