ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নেশার টাকার জন্য মাকে মারধর

পা থেকে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে ছেলেকে শাস্তি দিল এলাকাবাসী

পা থেকে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে ছেলেকে শাস্তি দিল এলাকাবাসী
×

ছবি: সমকাল

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২২:২৯

তরুণ বয়সেই নেশায় আসক্ত হয় খলিলুর রহমান। মাদকের টাকা হাতে না থাকলেই বাবা-মাকে চাপ দিয়ে অর্থ নিতো। টাকা না পেলেই খলিল মারধর করত বাবা-মাকে। তার এমন অত্যাচারে অতিষ্ঠ প্রতিবেশীরাও। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামের মো. নূরুদ্দিনে ছেলে খলিলুর রহমান শনিবার সকালে তার মায়ের কাছে মাদক কেনার জন্য টাকা চায়। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় মা খোদেজা খাতুনকে ব্যাপক মারধর করে খলিল। ইট দিয়ে পা থেতলে দেয়। পরে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে খলিলকে ধরে পা থেকে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখে। মা-বাবাকে মারধর করার এটাই শাস্তি বলে জানান এলাকাবাসী।

এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে মাটি খুঁড়ে খলিলকে পা থেকে কোমড় পর্যন্ত পুঁতে রাখা হয়েছে। তার পাশে দুটি ফেস্টুনও রয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে- ‘মাকে মারার শাস্তি’ ও ‘বাপ-মার গায়ে হাত তোলায় তার এই শাস্তি  দেওয়া হলো’। 

স্থানীয় কয়েকজন জানায়, খলিলের মায়ের অনুমতি নিয়েই এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। 

শফিকুল ইসলাম বলেন, খলিল তার মাকে মারধর করার সময় চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। পরে ছেলেকে ভয় দেখানোর জন্য মা খোদেজা ছেলেকে মাটিতে অর্ধেক দেহ পুঁতে রাখার পরামর্শ দেন। 

তিনি বলেন, এভাবে ঘণ্টাখানেক রাখার পর খলিল নিজেই মাটি সরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা ধরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে।

স্বজনরা জানায়, ছেলেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তার বাবা-মা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারেননি। প্রায়ই বাবা-মাকে মারপিট করতো। তাই বাধ্য হয়ে মা নিজেই এ শাস্তির পরামর্শ দেন। 

খলিলের মা খোদেজা খাতুন বলেন, ছেলের মারপিট আর সহ্য করতে পারছিলাম না। বাধ্য হয়ে এলাকার লোকজনকে ডেকে এনে এ শাস্তির ব্যবস্থা করি। 

খলিলের বাবা নূরুদ্দিন বলেন, আমার দু’টি সংসার। খলিল আমার প্রথম ঘরের ছেলে। সংসারের সব অশান্তি শুধু ওর জন্যই।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নাছির আহমদ বলেন, এ ঘটনায় খলিলের বাবা নূরুদ্দিন বাদী হয়ে ছেলে বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
 
এ বিষয়ে সমাজকল্যাণের অধ্যাপক শেখ কামরুন্নাহার বলেন, খলিল তার মা বাবাকে মারধর করেছে- এটা কোনো ভাবেই উচিত নয়। বরং মহা অন্যায়। দেশের আইন বা ইসলাম ধর্ম একে সমর্থন করে না। সে অপরাধ করেছে। এই অপরাধের বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হতে পারতো। ছেলেটাকে মাটিতে পুঁতে রেখে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে সেটাও তো আরেকটা অপরাধ। এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না। 

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন সমকালকে বলেন, এ ধরনের শাস্তি কখনও আইন সমর্থন করে না। দেশের আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হতে পারতো। 

আরও পড়ুন

×