ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশে সোপর্দ

মাদকের টাকার জন্য মাকে মারধর যুবকের অর্ধেক মাটিতে পুঁতে শাস্তি

মাদকের টাকার জন্য মাকে মারধর যুবকের অর্ধেক মাটিতে পুঁতে শাস্তি
×

মাকে মারধর করায় খলিলুর রহমানকে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে শাস্তি দেয় এলাকাবাসী

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

মায়ের কাছে মাদক কেনার টাকা চায় খলিলুর রহমান। কিন্তু টাকা দিতে পারেননি বলে বৃদ্ধা মা খোদেজা খাতুনকে মারধর করে এই যুবক। ইট দিয়ে পা থেঁতলে দেয়। পরে অভিযুক্ত যুবককে ধরে পা থেকে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখেন এলাকাবাসী। মা-বাবাকে মারধর করার জন্য এই শাস্তি বলে জানান এলাকার লোকজন। গতকাল শনিবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

যৌবনে পা রাখার পরপরই ভবঘুরে জীবন বেছে নেয় খলিলুর রহমান। আস্তে আস্তে ডুবে যায় নেশার রাজ্যে। মাদকের টাকা হাতে না থাকলেই বাবা-মাকে চাপ দিয়ে আদায় করত। টাকা না দিলেই মারধর করত। শনিবার সকালেও টাকার জন্য বৃদ্ধা মাকে মারধর করে এই মাদকাসক্ত যুবক। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তার পাশে মাটি খুঁড়ে তাকে পা থেকে কোমর পর্যন্ত পুঁতে রাখেন। তার পাশে দুটি ফেস্টুনও রাখা হয়। এতে লেখা ‘মা মারার শাস্তি’ ও ‘বাপ-মা’র গায়ে হাত তোলায় তার এই শাস্তি দেওয়া হলো’। মায়ের অনুমতি নিয়েই তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
টেপিরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, মাকে মারধর করার পর তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। এক পর্যায়ে খলিলুর রহমানের মা খোদেজা খাতুন আশপাশের লোকজন ডেকে জড়ো করেন। পরে ছেলেকে ভয় দেখানোর জন্য মাটিতে অর্ধেক দেহ পুঁতে রাখার পরামর্শ দেন। এ সময় তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এভাবে ঘণ্টাখানেক রাখার পর খলিলুর রহমান নিজেই মাটি সরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা ধরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

স্বজনরা জানান, ছেলেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তার বাবা-মা অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পারেননি। প্রায়ই বাবা-মাকে মারধর করত। অতিষ্ঠ হয়ে শনিবারের ঘটনায় ছেলেকে এই শাস্তি দেওয়ার জন্য তার মা-ই পরামর্শ দেন। এর আগেও বহুবার গ্রাম্য সালিশে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
খোদেজা খাতুন বলেন, ‘ছেলের অত্যাচার আর সহ্য করতে পারছিলাম না। বাধ্য হয়ে এলাকার লোকজনকে ডেকে এনে এই শাস্তির ব্যবস্থা করি।’

খলিলুর রহমানের বাবা নূরুদ্দিন জানান, তাঁর দুটি সংসার। খলিল তাঁর প্রথম ঘরের ছেলে। সংসারের সব অশান্তি শুধু তার জন্যই। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত খলিলুর রহমান কোনো মন্তব্য করেননি। শ্রীপুর থানার ওসি নাছির আহমদ জানান, এ ঘটনায় নূরুদ্দিন বাদী হয়ে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণের অধ্যাপক শেখ কামরুন্নাহার বলেন, মা-বাবাকে মারধর করা অন্যায়। সে অপরাধ করেছে। এই অপরাধের বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হতে পারত। ছেলেটাকে মাটিতে পুঁতে রেখে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে সেটাও তো আরেকটা অপরাধ। এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীনের ভাষ্য, এ ধরনের শাস্তি কখনও আইন সমর্থন করে না। দেশের আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হতে পারত।

 

আরও পড়ুন

×