ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শেরপুরে আবার বাউলগানের আসর পণ্ড

শেরপুরে আবার বাউলগানের আসর পণ্ড
×

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫৮ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

শেরপুর সদর উপজেলার গনইভরুয়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাতে বাউলগানের আসর পণ্ড করে দিয়েছে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক। এ সময় শিল্পীদের বাঁশিসহ সরঞ্জাম ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার দুই দিন পার হলেও গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক শামীম মিয়া তাঁর বাড়ির পাশে বার্ষিক বাউলগানের আয়োজন করেছিলেন। ব্যানারে অতিথি হিসেবে নাম ছিল শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আব্দুল মান্নান, অ্যাডভোকেট আলমগীর কিবরিয়া কামরুলসহ বিএনপি নেতাদের।

এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ২৫-৩০ বছর বয়সী উচ্ছৃঙ্খল যুবককে ব্যানার ছিঁড়তে দেখা যায়। তারা 
মারমুখী হয়ে আয়োজকদের খুঁজছিলেন। শিল্পী ও দর্শকদের গালাগাল করেন। যুবকদের হুমকিতে গান শুনতে আসা ৫০-৬০ দর্শক চলে যান। হাত-পা ধরে শিল্পীরা কোনোমতে হারমোনিয়ামসহ গানের সরঞ্জাম রক্ষা করেন। এর মধ্যে অনেক বাঁশি ছুড়ে ফেলার পর একজন পা ধরে সরঞ্জাম রক্ষার চেষ্টা করেন।
পাশের ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল সিদ্দিকী বলেন, যারা অনুষ্ঠান পণ্ড করেছেন, তারা যথেষ্ট প্রভাবশালী। সবাই তাদের ছবি ফেসবুকে দেখেছেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজক চালক শামীম মিয়াকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, ভয়ে তিনি আত্মগোপনে আছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জসীম জানান, এ ব্যাপারে কিছু বলতে চান না।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, বাউলগানের আসর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে– এমন কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবা হক বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। সদর থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার বলেন, বাউলগানের আসর করার অনুমতি চাওয়া হয়নি। আসর পণ্ড হয়েছে– এমন অভিযোগ কেউ করেননি। কেউ ফোন করে বা থানায় এসে সাহায্য চাননি। যদি কেউ অভিযোগ দেন, তাহলে তদন্ত করা হবে।
গত ১৭ অক্টোবর চরভাবনা গ্রামে গানের আসর বন্ধ করে দেয় ইত্তেফাকুল উলামা। ফেরার পথে তারা প্রতিরোধের মুখে পড়ে। এতে তিন মুসল্লি আহত হন। পরে গ্রামবাসী প্রায় এক সপ্তাহ অবরুদ্ধ ছিল। আয়োজকরা ভবিষ্যতে গানের আসর বসাবেন না– এমন ওয়াদা করে রেহাই পান।

আরও পড়ুন

×