ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জবিতে পাকিস্তানের পাশে ভারতের পতাকা, উত্তেজনা

জবিতে পাকিস্তানের পাশে ভারতের পতাকা, উত্তেজনা
×

ছবি: সমকাল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২১:৫১ | আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২১:৫১

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পাকিস্তানের পতাকা আঁকার পর তার পাশে ভারতের পতাকা এঁকেছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিজয়ের আলোচনা সভায় হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য জামায়াত সমর্থকদের নিয়ে অনুষ্ঠান উদযাপনে এলে তোপের মুখে পড়েন। অনুষ্ঠান বয়কট করেন বিএনপিপন্থি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই স্থানে ভারত ও পাকিস্তানের পতাকা আঁকেন। এর আগে ভাস্কর্য চত্বরে আরেক দল শিক্ষার্থী রাজাকারদের প্রতীকী ছবিতে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকারদের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ হোসেন বলেন, ‘যুদ্ধে পাকিস্তান আমাদের লাখ লাখ মানুষকে শহীদ করেছে। আজ রাতে আমাদের ভাইয়েরা পদদলিত করতে পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে গেলে বাধা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এর প্রতিবাদেই আমরা রাজাকারদের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করছি।’

ভারতের পতাকা আঁকা প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের বিজয়কে নিজেদের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এতে দেশের স্বাধীনতাকে কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টা রয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। 

আইন বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা কুক্ষিগত করার জন্য পোস্ট দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে তারা আমাদের সহায়তা করেছিল আমাদের রিজিয়ন দখলের জন্য। মোদির ওই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে আমারা ভারতের পতাকা এঁকেছি।’

এর আগে সোমবার রাত ১টার দিকে জবির প্রধান ফটকের সামনে পাকিস্তানের পতাকা আঁকা শুরু করেন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ক্যাম্পাসের ফটক দিয়ে আসসুন্নাহ মেধাবী প্রকল্পের আওতাধীন একদল শিক্ষার্থীকে বহন করা একটি বাস আটকে দেন। এ ঘটনায় প্রথমে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে।

পরে মাঝ রাতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা রাতভর প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা সারারাত উপাচার্যের গাড়ি অবরোধ করে রাখেন। পরে ভোর ৫টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপাচার্য ভবনের গেট থেকে সরে গেলে ক্যাম্পাস ছেড়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানাতে বের হন উপাচার্যসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। 

চবিতে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় হট্টগোল
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের উপস্থিতি ও বুদ্ধিজীবী দিবসে তাঁর দেওয়া একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের মিছিল ও স্লোগান চলার এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম বর্জন করেন চাকসুর এজিএসসহ হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় ‘সাম্প্রতিক বাংলাদেশে বিজয় দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।  

তোপের মুখে পবিপ্রবি ভিসি
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জামায়াতপন্থিদের নিয়ে বিজয় দিবস উদযাপনের অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন বিএনপিপন্থি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানের নেতৃত্বে তারা বিক্ষোভ করেন। আজ সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য শহীদ মিনারের উদ্দেশে রওনা দিলে ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাজাকারদের কুশপুতুলে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। আজ বিশ্ববিদ্যালয় বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল শিক্ষার্থী রাজাকারদের ছবি প্রদর্শনী করে ময়লা নিক্ষেপ করে। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো কলাভবনের সামনে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঘৃণাস্তম্ভ’। 

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা)

আরও পড়ুন

×