নির্মাণের পরপরই বাঁধে ধস অনিয়মের অভিযোগ
নান্দাইল উপজেলার কিসমত রসুলপুর গ্রামে নদী রক্ষা বাঁধে ধস সমকাল
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:৪০ | আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভাঙন রোধ ও সড়ক রক্ষায় নরসুন্দা নদের তীরে নির্মাণ করা বাঁধ ধসে গেছে। বাঁধ ধসের কারণে পাশের রাস্তাটি সরু হয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোট ছোট যানবাহন। নিয়ম না মেনে কাজ করার কারণেই নির্মাণের পরপরই বাঁধটি ধসে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নান্দাইল উপজেলার মুশুলী ইউনিয়নের তারঘাট বাজার থেকে নরসুন্দা নদের উত্তর পার দিয়ে একটি পাকা রাস্তা শুভখিলা রেলওয়ে সেতুর পাশে থাকা বধ্যভূমিতে গিয়ে মিশেছে। কিসমত রসুলপুর গ্রামে থাকা রাস্তার ৮২৫ মিটার নদীঘেঁষা। ভাঙনের হাত থেকে সড়কটি রক্ষা করার জন্য একটি বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রায় এক বছর আগে এক কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে কিসমত রসুলপুর অংশে নদের পারে ৮২৫ মিটার এলাকায় ব্লক বসানো হয়। বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব পায় কিশোর এন্টারপ্রাইজ নামে স্থানীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার কয়েক দিনের মধ্যেই ব্লকগুলো নদে ধসে পড়তে থাকে।
গত ২১ ডিসেম্বর বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পাকা রাস্তার পাশে নদের তীরে দেওয়া ব্লকগুলো ধসে এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও গর্তের কারণে রাস্তাটি সরু হয়ে গেছে। সেখান দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোট ছোট যানবাহন। স্থানীয়রা জানান, এখনই বাঁধটি সংস্কার না করলে রাস্তাটি বিলীন হয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল মিয়া জানান, নিয়ম মেনে কাজ করা হয়নি বলেই নির্মাণের পরপরই ধসে গেছে বাঁধটি। লিয়াকত আলী নামে একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি টাকা বলেই কি কেউ এমন দুর্বল কাজ করতে পারে! বাঁধের পাশের বাড়ির বৃদ্ধা লালবানু জানান, বাঁধ ভেঙে রাস্তাটি সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল গণি ভূঁইয়ার ভাষ্য, বাঁধটি নির্মাণে কোনো ধরনের ত্রুটি বা গাফিলতি করা হয়নি। নদের পারের এই জায়গাটির ঢাল খুবই খাড়া, স্রোতে বাঁধের নিচের মাটি ধীরে ধীরে সরে গেছে। এ কারণেই ব্লকগুলো ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি পুনরায় নির্মাণ করে দেবেন বলেও জানান তিনি।
এলজিইডির নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বিশ্বাস জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এখনও জামানতের টাকা ফেরত নেয়নি। কাজটি পুনরায় করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে।
