ফসল প্রতিরক্ষা বাঁধ
নিয়ম রক্ষার উদ্বোধনের পর বন্ধ কাজ
উদ্বোধনের পরেও কাজ শুরু হয়নি তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের আলমখালির মতো অন্য বাঁধগুলোতেও। সাম্প্রতিক ছবি সমকাল
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
তাহিরপুরে ৭৭টি ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়নি এখনও। নিয়ম রক্ষার আনুষ্ঠানিকতায় গত ১৫ ডিসেম্বর বালিজুড়ি ইউনিয়নের আঙ্গারুলি হাওরে দুটি বাঁধের কাজ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। বর্তমানে কোনো কাজই হচ্ছে না বাঁধগুলোতে। পিআইসি গঠনেও অসম্পূর্ণতা দৃশ্যমান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশ কিছু জায়গায় পানি জমে থাকার কারণে বন্ধ রয়েছে কাজ। এদিকে স্থানীয়রা জানান, সুনামগঞ্জ জেলার মাত্র একটি হাওরে এই সমস্যা। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়, তা নিয়ে কথা বলছে না কেউ।
নির্বাচন সামনে রেখে এবার সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরে বাঁধের কাজ দ্রুত করার তাগাদা দেন স্থানীয়রা। বাঁধের কাজ নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন কৃষকরা। সরকারি কাজে অনিয়মের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
স্থানীয় এক পরিবেশকর্মী ও তৃণমূল বিএনপির একাধিক নেতা জানান, যাদুকাটাসহ বিভিন্ন বালুমহাল ও সরকারি জলমহাল ইজারায় অনিয়ম, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের সচেতন উদাসনীতাসহ নানা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়েরের পরেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। এতে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন বাঁধের কাজেও বড় ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি হলে তার বিচার পাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার কোনো পথ থাকবে না। জমির ফসল বিনষ্ট হলে বাঁচার কোনো বিকল্প নেই তাদের কাছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৭৭টির মধ্যে ৭৫টি ফসল রক্ষা বাঁধের মেরামত কাজ শুরু করা হয়নি এখনও। বাকি দুটোতে সৌজন্য রক্ষার উদ্বোধনী কার্যক্রম চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। হাওরের বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এসব বাঁধের গোড়াতে পানি কিছুটা কমেছে। তবে মাটি এখনও নরম। প্রকল্প এলাকাতে কাদামাটি থাকায় খননযন্ত্র নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। সে জন্য কাজ শুরু হয়নি। এ অবস্থায় মাটি কাটা সম্ভব না। কিন্তু পিআইসির কাজ কেন বাকি, তা তাদের বোধগম্য নয়।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ বলেন, উপজেলার শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, বর্ধিত গুরমার হাওর, মহালিয়া হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করতে আরও ১৫ দিন সময় লাগবে।
আঙ্গারুলি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প সভাপতি খলিল মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার তাঁর প্রকল্পে মাটি কাটার মেশিন এসেছে। কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
সুনামগঞ্জ জেলার ৯৫টি হাওরে এবার ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ হবে। এ লক্ষ্যে ৪৩৩ কিলোমিটার বাঁধের অংশে ৫১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৩ কোটি টাকা। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার সমকালকে জানান, পানি কমে আসলেই শুরু হবে বাঁধের কাজ।
- বিষয় :
- বাঁধ
