রাজশাহীতে অবৈধভাবে ভরাট করা পুকুর উদ্ধার
ছবি: সমকাল
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:৩০
রাজশাহীতে অবৈধভাবে ভরাট করা আরও একটি পুকুর উদ্ধার করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে গরুর পঞ্চবটী এলাকার আহমদপুর পুকুরটি উদ্ধারের পর পুনরায় খনন করা হয়। বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
গত কয়েক মাস ধরে ২৫ কাঠা আয়তনের পুকুরটি কৌশলে রাতের আঁধারে ভরাট করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদের নেতৃত্বে মঙ্গলবার সেখানে অভিযান চালানো হয়।
এদিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ভরাট বন্ধে নগরীর ১৭টি পুকুর কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)।
এর আগে ২০১৪ সালে রাজশাহী নগরীর ৯৫২টি পুকুরকে সংরক্ষণ করতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী শওকত উদ্দীন রেন্টু উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন। পরে ২০২২ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট এক আদেশে শহরের ৯৫২টি পুকুর সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। কিন্তু পুকুর ভরাট করে প্লট আকারে জমি বিক্রি বা বাড়ি বানালে বেশি লাভ হওয়ায় অধিকাংশ পুকুর ভরাট করে ফেলা হয়।
বিভাগীয় কমিশনার গত ২৫ নভেম্বর প্রথমবার অভিযান চালিয়ে নগরীর মোল্লাপাড়া পুকুর উদ্ধার করেন।
স্থানীয়রা জানান, রাজশাহী-তালাইমারী সড়কের পাশের আহমদপুর পুকুরটির মালিক ১০ থেকে ১৫ জন। তবে মালিক পক্ষের সাত থেকে আটজন পুকুর ভরাটে জড়িত। তাদের মধ্যে আনার, আরিফ, চঞ্চল, সুমন, চন্দন ও তারা অন্যতম। স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাত করে পুকুরটি কয়েক মাস ধরে রাতের আঁধারে বালু ও ময়লা ফেলে ধীরে ধীরে ভরাট করা শুরু হয়। বোয়ালিয়া থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার সতর্ক করেন। এর পরও তারা পুকুর ভরাট চালিয়ে যাচ্ছিল।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় পুকুর ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। এই খনন কাজে যে ব্যয় হবে, তা পুকুর ভরাটকারীদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে। ভবিষ্যতে রাজশাহীতে আর কোনো পুকুর ভরাট করতে দেওয়া হবে না। খবর পেলেই কাজ বন্ধ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে পুকুর ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ভরাটকৃত পুকুর পুনরায় ফিরিয়ে আনাও আমাদের দায়িত্ব। আমরা অভিযোগ পাচ্ছিলাম, পাশের একটি ভবনের ভাঙা অংশ ফেলে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছিল।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বজলুর রশীদ বলেন, ব্যক্তিগত পুকুরগুলো মালিকরা ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ বা প্লট আকারে বিক্রি করতে চান। এটা তাদের অধিকার। তবে পরিবেশ রক্ষায় পুকুরগুলো জরুরি। তাই সিটি করপোরেশন ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের ১৭টি পুকুর কিনে নেওয়ার একটি প্রকল্প নিয়েছে। ধীরে ধীরে শহরের ভরাট করা সব পুকুর উদ্ধার করা হবে। ব্যক্তিগত সব পুকুর আমরা কিনে নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করব। এতে পরিবেশও বাঁচবে, আবার পুকুর মালিক ন্যায্যমূল্য পাবেন।
- বিষয় :
- রাজশাহী
- পুকুর ভরাট
