ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

দর্শনার্থী বাড়লেও নিম্নমানের পণ্য ও ভোগান্তিতে ক্ষোভ

দর্শনার্থী বাড়লেও নিম্নমানের পণ্য ও ভোগান্তিতে ক্ষোভ
×

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দর্শনার্থী ও ক্রেতার উপস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৪:৫৩

রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে চলমান ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পঞ্চম দিনে বুধবার দর্শনার্থী ও ক্রেতার উপস্থিতি দুটোই বেড়েছে। বুধবার আগের দুই-তিন দিনের চেয়ে শীতের প্রকোপ কম থাকায় সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীর ভিড় দেখা যায়। তবে ধুলাবালি, যানজট ও পণ্যের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। 

স্টল মালিক ও কর্মচারীরা জানান, গত ৩ জানুয়ারি মেলা উদ্বোধনের পর থেকে প্রথম চার দিন প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। বুধবার পঞ্চম দিনে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসায় দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে মেলায় আসতে গিয়ে দর্শনার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি, ধুলাবালি ও যানজট দর্শনার্থীদের দুর্ভোগে ফেলছে। শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত কাঞ্চন সেতুর উভয় পাশে মাটির স্তূপ ফেলে রাখা ও ভেকু দিয়ে সড়ক খননের কারণে পূর্বাচল এলাকায় ধুলাবালি বেড়েছে। 

বুধবার মেলায় গিয়ে দেখা যায়, দর্শণার্থী বেশি থাকায় অনেক স্টল মালিক বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় দিয়েছেন। তবে ক্রেতারা বেছে বেছেই টুকিটাকি পণ্য কিনছেন। অনেকে আবার পণ্যের মান নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, অনেক স্টলে ফুটপাতের মানের পণ্য উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক মানের মেলায় এ ধরনের নিম্নমানের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি মেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। 

আব্দুল ওহাব নামে এক দর্শণার্থী বলেন, খাবারের স্টলগুলোতে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। অথচ খাবারের মান সন্তোষজনক নয়। চারপাশে ধুলাবালির কারণে পরিবেশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বাবু মিয়া নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, ভেবেছিলাম আগের বছরের তুলনায় এবার পণ্যের মান ভালো হবে। কিন্তু মেলা ঘুরে দেখে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

মেলার আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো জানিয়েছে, এবার মেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৩২৪টি দেশি-বিদেশি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে। ইলেকট্রনিক সামগ্রী, পোশাক, থ্রিপিস, কসমেটিক্স, হস্তশিল্প, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’ প্রাঙ্গণ মেলার অন্যতম আকর্ষণ, যেখানে দর্শনার্থীরা দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছেন। এ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, সিঙ্গাপুর, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্যাভিলিয়ন মেলায় বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।

মেলাকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্য, একাধিক মোবাইল টিম ও চেকপোস্ট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহলে রয়েছেন। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের (গ সার্কেল) সহকারী সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, মেলার পঞ্চম দিনে দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম বেড়েছে। আমরা কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি।

আরও পড়ুন

×