তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বীজতলা বিনষ্ট বোরো আবাদে বিপর্যয়ের শঙ্কা
মাধবপুরে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বোরো বীজতলা। বৃহস্পতিবার বুল্লা ইউনিয়নে সমকাল
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বোরো ধানের আবাদে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা, সূর্যের আলো না থাকা এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকায় বোরো ধানের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার বুল্লা, ছাতিয়াইন, নোয়াপাড়া ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নে দেখা গেছে, অনেক বীজতলায় চারা গাছ হলদে হয়ে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও চারাগাছ পচে বিনষ্ট হয়েছে। বিপুল চারাগাছ বিনষ্ট হওয়ায় নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে; যা সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে কৃষকদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুল্লা ইউনিয়নের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, ‘প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ধানের বীজতলা দিয়েছিলেন। কয়েকদিন ধরে এত ঠান্ডা পড়ছে যে চারাগাছ ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারছে না। বীজতলার অনেক জায়গায় পাতা হলদে হয়ে গেছে, কিছু জায়গায় একেবারেই পচে যাচ্ছে। যদি আবার নতুন করে বীজতলা দিতে হয়, তাহলে খরচ সামলানো খুব কঠিন হবে।’
ছাতিয়াইন ইউনিয়নের কৃষক মোস্তাক আহমদ বলেন, বোরো ধান সময়মতো রোপণ না করতে পারলে ফলন কমে যায়–এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই ঠান্ডায় চারা তোলার মতো অবস্থায় নেই। রোদ না উঠলে বীজতলা বাঁচানো যাবে না। সার, বীজ আর শ্রমিকের দাম আগেই বেশি, এখন যদি আবার ক্ষতি হয়, তাহলে কৃষককে বোরো আবাদ করে লোকসান গুনতে হবে।
উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কৃষক জসিম উদ্দিনের ভাষ্য, প্রচণ্ড শীতের কারণে তাদের এলাকায় অনেক কৃষকের বীজতলা প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। কেউ কেউ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কয়েকদিন ধরে টানা কুয়াশা আর ঠান্ডার কারণে তেমন লাভ হচ্ছে না। তিনি বলেন, তাঁর পরিবার একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে প্রতি বছর ধারদেনা করে আবাদ করেন। ফসল ঠিকমতো না হলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাবে।
শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল
কাদের বলেন, গত বছরও ঠান্ডা ছিল, তবে এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ। সারাদিন কুয়াশা থাকে, রোদ ওঠে না। বীজতলা বিনষ্ট হলে এলাকাজুড়ে এর প্রভাব পড়বে। অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে আরও সহযোগিতার প্রত্যাশা করেন তিনি।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার জানান, তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে এটা সত্য। কৃষকদের বীজতলা খড় বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, সকালে কুয়াশা কেটে গেলে জমির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
- বিষয় :
- শৈত্যপ্রবাহ
