তীব্র শীতে বদলে গেছে বোরো বীজতলার রং
ছবি: সমকাল
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৫৭
কয়েক দিনের টানা শৈত্যপ্রবাহে কিশোরগঞ্জে গাঢ় সবুজ বোরো বীজতলার রং বদলে হলুদ হয়ে গেছে। এই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। কিছুদিনের মধ্যেই তারা জমিতে এসব চারা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই সময় বীজতলা হলুদ হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
কটিয়াদী সদরের কৃষক আব্দুর রহিম ব্রহ্মপুত্রের তীরে বোরো বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তাঁর চারাগুলো ছিল গাঢ় সবুজ। কিন্তু তীব্র শীতে পুরো জমির চারাগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। তিনি এর সমাধান খুঁজে পাচ্ছেন না। এসব চারা রোপণ করে ভালো ফসল মিলবে কিনা– এ নিয়ে দুর্ভাবনায় পড়েছেন।
একই উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের শেখেরপাড়া এলাকার কৃষক শেখ জমসেদ ও নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় অনেক কৃষকের বীজতলা হলুদ হয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার ১৩ উপজেলায় বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৮৪৩ দশমিক ১০ হেক্টর জমি। এসব বীজতলার চারা দিয়ে জেলার এক লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমি আবাদ করা হবে। অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমানের ভাষ্য, অধিকাংশ বোরো জমির অবস্থান হাওরে। সেখানকার জমিতে আগাম জাতের ধানের আবাদ করা হয় বেশি। বীজতলাও আগে তৈরি করা হয়। সেসব জমিতে চারা রোপণও শেষের পর্যায়ে। যে কারণে হাওরাঞ্চলের বীজতলার তেমন ক্ষতি হয়নি। উঁচু এলাকার জমিতে চারা রোপণ করা হয় দেরিতে। যে কারণে সেসব এলাকার বীজতলাও দেরিতে তৈরি করেন চাষিরা। এসব বীজতলার চারা অপরিণত হওয়ায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।
এই কর্মকর্তা কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন, বীজতলায় যেন রাতে সেচ দিয়ে সকালে আবার পানিটুকু নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে দড়ি টেনে চারার গায়ে জমে থাকা কুয়াশা ফেলে বীজতলায় ছাই ছিটানোর পরামর্শও দিয়েছেন।
- বিষয় :
- শৈত্যপ্রবাহ
- কিশোরগঞ্জ
