ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শৈত্যপ্রবাহ ও ঠান্ডায় দুর্ভোগে চা শ্রমিকরা

শৈত্যপ্রবাহ ও ঠান্ডায়  দুর্ভোগে চা শ্রমিকরা
×

হবিগঞ্জের মাধপুরে সুরমা চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা। বুধবার তোলা সমকাল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘ভোরে যখন কাজে যাই, তখন হাত কাঁপে। শীতের কাপড় নাই। কাজ না করলে হাজিরা কাটবে, মজুরি পাব না।’ বলছিলেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক মঙ্গলী রানী। 
শীতের কুয়াশা ভেজা সকালে চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই অনেকের দিন শুরু হয়। অথচ সেই চা উৎপাদনের পেছনে থাকা শ্রমিকরা কনকনে বাতাস আর ঘন কুয়াশার মধ্যে চা বাগানে কাজে নামেন। তখন তাদের অনেকেরই নেই  প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র। 

গত মঙ্গল ও বুধবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, বৈকুণ্ঠপুর, জগদীশপুর, সুরমা ও তেলিয়াপাড়া চা বাগানসহ লস্কর ভ্যালির ২৩টি চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, নারী ও পুরুষ চা শ্রমিকরা শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করছেন। চা বাগানের অধিকাংশ শ্রমিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর। সীমিত আয়ের কারণে অনেকের কাছেই নেই শরীর গরম রাখার মতো শীতবস্ত্র। পাতলা কাপড় গায়ে দিয়েই তারা ভেজা ঘাসে দাঁড়িয়ে চা পাতা তুলছেন। ঠান্ডায় হাত-পা অসাড় হয়ে গেলেও কাজ থেমে থাকে না। 

বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের এক পুরুষ শ্রমিক সুবাস ভুমিজ বলেন, ‘গত বছর কিছু মানুষ এসে কম্বল দিয়েছিল। এবার কেউ আসছে না। শুনছি নির্বাচন আছে, নিয়মের কারণে নাকি দেওয়া যায় না।’
জগদীশপুর চা বাগানের প্রবীণ শ্রমিক লাকু উরাঁও বলেন, ‘এই বয়সে শীত খুব কষ্ট দেয়। বুক ব্যথা, কাশি হয়। তবু কাজ করতে হয়, না করলে সংসার চলবে কী করে? আমাদের ছেলেমেয়েরাও শীতে অসুস্থ হচ্ছে। বাগানে ডাক্তার নাই, ওষুধ কিনতেও টাকা লাগে। আগে অনেক মানুষ শীতবস্ত্র দিত। এবার সেই আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। আমরা খুব কষ্টে দিন পার করছি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইমন মুর্মু জানান, শীতজনিত কারণে চা বাগান এলাকায় সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু বাগান এলাকায় চিকিৎসা সুবিধা খুবই সীমিত। অনেক শ্রমিক অসুস্থ শরীর নিয়েই কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অথচ শীতের মতো দুর্যোগে তারা প্রচণ্ড অবহেলার শিকার। তাদের শীতবস্ত্র, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচন আচরণবিধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রশাসনের উচিত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া।
মাধবপুর ইউএনও জাহিদ বিন কাশেম বলেন, চা শ্রমিকদের দুর্ভোগের বিষয়টি তারা গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।  

আরও পড়ুন

×