ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ ঘিরে ছাত্র সংগঠনের পাল্টাপাল্টি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ ঘিরে ছাত্র সংগঠনের পাল্টাপাল্টি
×

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৮:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিভিন্ন পদে নিয়োগ ইস্যুতে বিপরীত অবস্থান নিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো। একদিকে নির্বাচন সামনে রেখে সব নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল। অন্যদিকে শিক্ষক সংকট নিরসনে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চালু রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

নিয়োগ বন্ধের দাবির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার দুপুরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রশাসন ভবনে যান। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকিব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ তাঁর কার্যালয়ে না থাকায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবিটি উপাচাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে জানান। এরপর তারা উপউপাচার্যের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে দাবির বিষয়ে অবহিত করেন।

অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শিক্ষক সংকটের কথা উল্লেখ করে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে আসছেন। গত বুধবার দুপুরে সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা দিতে বিলম্ব হওয়া মার্কেটিং বিভাগের সভাপতির কার্যালয়ে যান। এ সময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগের পরিকল্পনা জমা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক সাদিকুল আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব বাঁধন বিশ্বাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকলেও বিভিন্ন মহল থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি বিভাগের নিয়োগের পরিকল্পনা জমা দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে। এ বিষয়ে খোঁজ নিতেই আমরা সাত-আটজন গিয়েছিলাম। আমরা দ্রুত পরিকল্পনা জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। কোনো প্রকার হুমকি বা চাপ প্রয়োগ করিনি।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিভাগের সভাপতিদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আমরা রেজিস্ট্রার স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। নিয়োগ নিয়েও সেখানে কথা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, নিয়োগ দিতে গেলেই সেখানে ফ্যাসিস্ট ঢুকে পড়ছে, নিয়োগে স্বচ্ছতা থাকছে না। তাই আমরা চেয়েছি, তাড়াহুড়ো না করে যাচাই বাছাই করে সময় নিয়ে নির্বাচনের পরেই নিয়োগে যান। উপউপাচার্য ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, ছাত্রদল আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিল। তাদের সঙ্গে নিয়োগের বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের বিষয়ে আমি কিছু জানিও না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসেছিল। তারা নির্বাচনের আগে সবরকম নিয়োগ বন্ধের বিষয়ে আমাকে উপাচার্যের কাছে বলতে বলেছে।

গত ১৪ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবিতে উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছিল বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের একাংশ। আরেক অংশ এ দাবির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনটির এক জরুরি সভায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।

আরও পড়ুন

×