নির্বাচন ঘিরে টেকনাফ সীমান্তে কঠোর অবস্থানে নৌবাহিনী
ছবি: সংগৃহীত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ২১:৩৭
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের টেকনাফে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সীমান্ত এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে জোরদার করা হয়েছে টহল, নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চলছে নিয়মিত ফুট পেট্রোলিং ও প্রচারণা।
বুধবার দুপুরে টেকনাফে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।
এ সময় তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টেকনাফে নৌবাহিনীর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান বলেন, টেকনাফ একটি ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকা। অবৈধ অস্ত্র, মাদক চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানব পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চল বিশেষ নজরদারির মধ্যে রয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ছিল বাড়তি উদ্বেগ।
তিনি বলেন, এই উদ্বেগ দূর করতে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রতিদিন টেকনাফ পৌর এলাকা, প্রধান সড়ক এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ড্রোন, হেলিকপ্টার, সোয়াডস টিম প্রস্তুত
নৌবাহিনী জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স, সোয়াডস টিম, ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা। পাশাপাশি বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে মাঠে নৌবাহিনী
রিয়ার এডমিরাল মঈনুল হাসান জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে নৌবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানব পাচার রোধে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নৌবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যমানভাবে স্বাভাবিক রয়েছে।
ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য
কমান্ডার বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নৌবাহিনী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য নৌ সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আইনানুগ নির্দেশনা ও আচরণবিধি প্রদান করা হয়েছে।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী জানিয়ে রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান ও আইনের আলোকে অর্পিত দায়িত্ব সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। নির্বাচন ঘিরে নৌবাহিনীর এমন তৎপরতা সীমান্ত এলাকার ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা দিচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
