ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সংঘর্ষে ৩ বন্দি নিহত

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সংঘর্ষে ৩ বন্দি নিহত
×

সংগৃহীত ছবি

যশোর অফিস

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২০ | ১০:১৯ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২০ | ১৪:২৩

যশোর শিশু উন্নয়ন (বালক) কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১১ বন্দি। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যশোর সদরের পুলেরহাটে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই পক্ষে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

যশোর কোতয়ালি থানার এসআই সেকেন্দার আবু জাফর জানান, নিহতরা হচ্ছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ছোলিবপুর পূর্বপাড়ার নান্নু পরামানিকের ছেলে ধর্ষণ মামলায় আটক নাইম হাসান (১৭), খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা দক্ষিণপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে হত্যা মামলায় আটক পারভেজ হাসান (১৮) ও বগুড়ার শেরপুর থানার মহিপুর গ্রামের নূরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল ওরফে সুজন।

এদিকে ঘটনার পর রাত ৯টার দিকে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিনসহ সিআইডি ও পিবিআইয়ের একটি টিম উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। সেখানে গেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও। রাত ১১ টা ৩৫ মিনিটে নতুন করে ভেতরে প্রবেশ করেছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম।

রাত সাড়ে ১২ টা নাগাদ পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উন্নয়ন কেন্দ্রে অবস্থান করলেও বেরিয়ে আসেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, অনাকাঙ্খিত সংঘর্ষে তিন কিশোরবন্দি নিহত হবার ঘটনা দু:খজনক। এ ঘটনার চুলচেরা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে সবকিছু জানা যাবে। জড়িত অপরাধীরা সকলেই শাস্তির আওতায় আসবে।

তবে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বর্তমানে কতজন বন্দি রয়েছে এবং এ ঘটনায় কেউ আটক হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মুখ খোলেননি।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, যশোর সদরের পুলেরহাটে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই পক্ষে সংঘষের ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, সেখানে আটকদের মধ্যে দুই গ্রুপ রয়েছে। এরা হচ্ছে পাভেল গ্রুপ ও রবিউল গ্রুপ। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অমিয় দাস জানান, দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি মরদেহ আসে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে। সন্ধ্যা ৬ টা ৩৮ মিনিটে নাইম হাসান, সাড়ে সাতটায় পারভেজ হাসান এবং রাত ৮টায় আসে রাসেলের মরদেহ।

এ চিকিৎসক জানান, এক জনের মাথায় ভারি কোন বস্তু দিয়ে আঘাতে চিহ্ন দেখা গেছে। অন্যদের শরীরের কোন আঘাত এখনও পর্যন্ত শনাক্ত হয়নি।

কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে মরদেহ নিয়ে আসা এক ব্যক্তি নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের বার্তা বাহক পরিচয় দেন। কিন্ত তিনি কিছু বলতে চাননি। 

আরও পড়ুন

×