ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাজশাহী-৬ আসন

ভোট বর্জনের স্মৃতি পেছনে ফেলে সরব মাড়িয়া কেন্দ্র

ভোট বর্জনের স্মৃতি পেছনে ফেলে সরব মাড়িয়া কেন্দ্র
×

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারের সারি। ছবি: সমকাল

চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:২৪

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবে বরাবরের মতো এবারও আলোচনার কেন্দ্রে চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের মাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র। যে কেন্দ্র একসময় ভোট বর্জনের জন্য আলোচিত ছিল, সেখানে এখন উৎসবের আমেজ।

সকাল সাড়ে ৭টায় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোট শুরুর আগেই নারী ও পুরুষ ভোটারদের আলাদা লাইনে দীর্ঘ সারি। কেন্দ্র চত্বরে উৎসবমুখর পরিবেশ, ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট আগ্রহ ও উৎসাহ।

এ আসনে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপির আবু সাইদ চাঁদ ও জামায়াতে ইসলামীর নাজমুল হকের মধ্যে। সকাল সাড়ে ৭টায় মাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন আবু সাইদ। অন্যদিকে একই ইউনিয়নের শলুয়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে সকাল ১০টায় ভোট দেন নাজমুল হক।

মাড়িয়া কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৫৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৭৭৪ এবং নারী ১ হাজার ৮১৪ জন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ভোট বর্জন করলে একজন ভোটারও কেন্দ্রে না আসায় সারাদেশে আলোচনায় আসে কেন্দ্রটি। পরবর্তী ২০২৪ সালের নির্বাচনেও এখানে ভোট পড়েছিল মাত্র ১৭ শতাংশ।

তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। সকাল ৭টা থেকেই ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। নারী-পুরুষ উভয় সারিতেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ২১ শতাংশ। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে ভোট দিচ্ছেন।

ভোট দিতে আসা ষাটোর্ধ্ব শমসের আলী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর মাড়িয়া গ্রামের মানুষ ভোট দিচ্ছে। ২০১৪ সালে কেন্দ্রের ৫০০ গজের মধ্যেও কেউ আসেনি। সারাদেশ জানত, এখানে একটি ভোটও পড়েনি। কিন্তু এবার উৎসবের আমেজ— কে কার আগে ভোট দেবে, সেই প্রতিযোগিতা চলছে।

স্থানীয় শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, বিগত সময়ে ভয়-ভীতির কারণে অনেক জায়গায় কিছু ভোট পড়লেও আমাদের কেন্দ্র ছিল ব্যতিক্রম। মামলা-হামলার পরেও কেউ কেন্দ্রে আসেনি।

এই কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বিএনপি প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ বলেন, এ গ্রামের মানুষ ভোট দিতেও জানে, আবার বয়কট করতেও জানে। চারঘাট-বাঘা জুড়ে এবার উৎসবের পরিবেশ। নানা চক্রান্ত থাকলেও দিনশেষে ধানের শীষ বিজয়ী হবে।

শলুয়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হক বলেন, আগে মানুষ কেন্দ্রে না গিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল, এবার ঈদের আমেজে তার ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে দাঁড়িপাল্লার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

আরও পড়ুন

×