কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নদীতে ঝাঁপ, উদ্ধার হয়নি তরুণ
ছবি: সংগৃহীত
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:১৫
রাউজান থেকে হাটহাজারীতে ওরসে যাওয়ার পথে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় হালদা নদীতে পড়ে তালিয়ে গেছেন মো. সাব্বির নামে এক তরুণ। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদিকে নিখোঁজের ৩৩ ঘণ্টা পার হলেও সন্ধান মেলেনি সাব্বিরের।
গতকাল রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের দুটি ইউনিট নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর সন্ধান না পেয়ে কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামদাশ মুন্সির হাটের হালদা নদীর খেয়াঘাটে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মো. সাব্বির রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানা উল্লাহ চৌধুরীর বাড়ির আব্দুল মান্নানের একমাত্র ছেলে। জানা গেছে, গত শনিবার রাতে হাটহাজারী উপজেলার রামদাশ মুন্সির হাট এলাকায় প্রসিদ্ধ বুজুর্গ আব্দুল করিম শাহ (রহ.) প্রকাশ পোয়া ফরিকের ওরস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই উদ্দেশ্যে এদিন রাতে সাব্বির কয়েক বন্ধুসহকারে নৌকায় হালদা নদী পার হয়ে সেখানে যান। ওরস থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে নৌকায় উঠলে অতর্কিতভাবে ২০-২৫ জনের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য তাদের ওপর হামলা চালায়।
নৌকায় থাকা পাঁচ-ছয়জনকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের হামলা থেকে বাঁচতে সাব্বিরসহ কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। সাঁতার কেটে নদী থেকে বাকিরা তীরে আসতে পারলেও সাব্বির নদীতে তালিয়ে যায়। রামদাশ মুন্সির হাটস্থ হালদা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই রমজান আলী বলেন, কয়েকজন বন্ধু মিলে সাব্বির ওরসে এসেছিলেন। তাদের কয়েকজনের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে তারা নদীতে ঝাঁপ দেয়। ৯৯৯-এ কল পেয়ে থানা থেকে পুলিশ এলে আমরা জানতে পারি।
ভোর থেকে নৌপুলিশ এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অনুসন্ধান চালিয়েছে। তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। হালদা রক্ষায় স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে হামলার ঘটনাটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তবে তদন্তে স্বার্থে কিছু বলা যাবে না। হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আবদুল মান্নান বলেন, আগ্রাবাদ ও হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের দুটি ইউনিট নদীতে তল্লাশি চালিয়েছে। সকাল থেকে ডুবুরি দল অনুসন্ধানে নামবে। তাঁর ধারণা ভাটার টানে নিচের দিকে চলে যেতে পারে সাব্বিরের দেহ।
এদিকে পুলিশ, ডুবুরি দল তাঁর সন্ধান না পেলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সাব্বিরের একটি জ্যাকেট ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেন। জ্যাকেটের পকেট থেকে তাঁর মুঠোফোন পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত করেন হালদা পারের বাসিন্দা মহিউদ্দিন চৌধুরী। হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ছেলেরা ছেলেরা তর্কের কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
নিখোঁজের পিতা আব্দুল মান্নান বলেন, এখনও আমার ছেলের সন্ধান পায়নি। আমরা হাটহাজারী থানায় জিডি করতে এসেছি। কারা, কী কারণে আমার ছেলের ওপর হামলা চালিয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। সকাল থেকে নদীর পারে বসে সাব্বির মাকে আহাজারি করতে দেখা যায়। নদীর দুই পারে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।
- বিষয় :
- রাউজান
