ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিশুকে বিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন, প্রতিবাদী মায়ের নামে ছড়ানো হচ্ছে কুৎসা

শিশুকে বিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন, প্রতিবাদী মায়ের  নামে ছড়ানো হচ্ছে কুৎসা
×

সোনাগাজী (ফেনী) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফেনীর সোনাগাজীতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেন এক শিক্ষক। এর প্রতিবাদ করেন ভুক্তভোগীর মা। এতে বিপাকে পড়েছেন তিনি। উল্টো তাঁর সঙ্গে এক ওষুধের দোকানির নাম জড়িয়ে কুৎসা রটিয়েছে একটি চক্র। এ বিষয়ে মেয়েকে নিপীড়নকারী শিক্ষকসহ দুই-তিনজনের নামে মঙ্গলবার সোনাগাজী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই নারী। 

ভুক্তভোগী নারী স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত। তাঁর ৯ বছর বয়সী মেয়েটি উপজেলার কারামতিয়া বাজারের আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে কক্ষে একা পেয়ে তার শ্লীলতাহানি ও যৌন নিপীড়ন করেন শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন। শিশুটি বাসায় গিয়ে ঘটনাটি মাকে জানায়। পরদিন তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে প্রিন্সিপালের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর ভিত্তিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সালিশ বৈঠক ডাকলে দেলোয়ার পালিয়ে যান। ১১ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে দেলোয়ার হোসেন ওই নারীর বাসায় গিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দেন।

ওই নারীর ভাষ্য, তিনি অসুস্থ থাকায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোবাইল ফোনে স্থানীয় বাজারের ঝর্ণা মেডিসিন শপের মালিক রাজীব চন্দ্র দাসকে বাসায় ওষুধ দিয়ে যেতে বলেন। রাজীব বাড়িতে ওষুধ দিয়ে যান। ওই বিষয়টি জানতে পেরে দেলোয়ার হোসেন স্থানীয় বিএনপির কয়েক লোককে দিয়ে রাজীবের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে কুৎসা প্রচার করেন। তিনি ঘটনাটি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও চর দরবেশ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঁইয়াকে জানিয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
রাজীব চন্দ্র দাসের ভাষ্য, অসুস্থ ওই নারীকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বাসায় ওষুধ দিয়ে এসেছিলেন। এরপর সন্ধ্যায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন তাঁকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে বেদম মারধর করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ১২ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। রাতে মাসুদ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোন ফেরত পান।

বক্তব্য জানতে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের ফোনে কল দিলেও ধরেননি। তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল হারুন অর রশিদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির কোনো নেতাকর্মী মন্তব্য করতে চাননি। 
এ বিষয়ে মঙ্গলবার দেলোয়ারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় অভিযোগ দেন ওই নারী। থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি তদন্তের জন্য এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে প্রতিবেদন পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। 

আরও পড়ুন

×