ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

শিশু গৃহকর্মীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

শিশু গৃহকর্মীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, চিকিৎসক গ্রেপ্তার
×

জাহিদুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০:৪৩

সাভারের আশুলিয়ায় শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম (৩৪) নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে নবীনগরের নিরিবিলি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর বাবা আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন। আজ রোববার এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জাহিদুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার আরেক আসামি জাহিদুলের স্ত্রী পলাতক।

জানা গেছে, জাহিদুল ইসলাম মাদারীপুর সদর উপজেলার রাজৈর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে নবীনগরের নিরিবিলি এলাকার ফাল্গুনী হাউজিংয়ের আলমগীর হোসেনের বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন। সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক হাসপাতালের চিকিৎসক জাহিদুল। ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর (১০) বাড়ি পাবনায়। সে ১১ মাস ধরে ওই চিকিৎসকের বাড়িতে কাজ করে আসছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাহিদুল ও তাঁর স্ত্রী মারিয়া সুলতানার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত শিশুটি। শনিবার রাতে ওই দম্পতির দুই মাসের সন্তানকে খাওয়ানোর সময় সে একটু ধমক দেয়। বিষয়টি দেখে ক্ষুব্ধ হন জাহিদুল। তিনি একটি লাঠি দিয়ে গৃহকর্মীকে আঘাত করতে থাকেন। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিশুটি সুযোগ বুঝে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকে। এলাকাবাসী কান্নার কারণ জানতে চাইলে সে বিস্তারিত বলে। একইভাবে এর আগেও একাধিকবার নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানায় শিশুটি। পুরো ঘটনা শুনে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাহিদুলকে থানায় নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী শিশু অভিযোগ করে বলে, প্রথম এক মাস তাকে মারধর করা হয়নি। এরপর থেকে কোনো কাজে ভুল হলেই স্বামী-স্ত্রী মিলে তার ওপর নির্যাতন চালাতেন। তাদের সন্তান খাবার না খেলেই তাকে মারধর করা হতো। গরম খুন্তি দিয়ে তার জিহ্বায় ছ্যাঁকা দিয়েছেন তারা। পরিবারের বিষয়ে সে জানায়, টাকার জন্য তার বাবা ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ওই দম্পতির বাসায় কাজের জন্য রেখে গেছেন।

আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন বলেন, শিশু নির্যাতনের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। আরেকজন পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।

আরও পড়ুন

×