লন্ডনে গান–আবৃত্তি–নাটকে অভিবাসনের মানবিক আলেখ্যানুষ্ঠান
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪০
লন্ডনের আনন্দধারা আর্টসের প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হলো অভিবাসী মানুষের জীবন কেন্দ্রীক নাটক, গান ও আবৃত্তির সমন্বয়ে আলেখ্যানুষ্ঠান ‘দেশান্তর’। শনিবার পূর্ব লন্ডনের ড্রাইভ মেথডিস্ট চার্চের মঞ্চে অভিবাসন, পরিচয় ও মানবতার চিরন্তন সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।
বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক শাহাদুজ্জামানের ভাবনা ও উপস্থাপনায় এবং আনন্দধারা আর্টসের পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গীত পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি মানবসভ্যতার ইতিহাসে অভিবাসনের ধারাবাহিকতা এবং মানব বিবর্তন ও অভিবাসী জীবনের ওপর তার সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে শিল্পসম্মতভাবে উপস্থাপন করে।
শঙ্খ ঘোষ, জীবনানন্দ দাশ, সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা ও কবিতা থেকে সৃষ্ট গান নিয়ে এই পর্বটি সাজানো হয়। অধিকাংশ গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেন ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, একটির সুরকার ছিলেন শাহীন সরদার। সমর সাহা, জিয়াউর রহমান সাকলায়েন ও তানিশা চৌধুরীর আবৃত্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অন্যদিকে ঈশিতা সাহা ও ড. ইমতিয়াজ আহমেদের কণ্ঠে পরিবেশিত গান ও মাটি সিদ্দিকীর নৃত্য ছিলো মনোমুগ্ধকর। তাদের পরিবেশনা ও অনুষ্ঠানের আলোচক ড. শাহাদুজ জামানের বর্ণনায় অভিবাসী মানুষের অনুভূতি, সংগ্রাম ও স্বপ্ন জীবন্তভাবে ফুটে ওঠে।
প্রথম পর্বের পর প্রদর্শিত হয় মুকুল আহমেদ পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হু অ্যাম আই’-এর নির্বাচিত অংশ। পরিচয়, আত্মঅন্বেষণ এবং আপন সত্তার সন্ধানকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্র দর্শকদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট-নিবাসী প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব হীরা চৌধুরীর একক নাট্যাভিনয়। অধ্যাপক শাহাদুজ্জামানের ছোটগল্প ‘উড্ডিন’ অবলম্বনে নির্মিত এই পরিবেশনা অভিবাসী জীবনের বেদনা, সংগ্রাম ও মানবিক অনুভূতিকে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘অভিবাসী হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের জীবন ও মানসজগৎ স্বতন্ত্র। সেই অভিন্ন অথচ বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতাগুলোকেই আমরা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছি।’

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘অভিবাসন মানবসভ্যতার ইতিহাসে একটি চলমান বৈশ্বিক বাস্তবতা। আমাদের উচিত একে অপরকে সম্মান করা এবং সহমর্মিতা, মর্যাদা ও মানবিকতার সঙ্গে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো।’
অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনায় সহযোগিতা করেন অমিত দে ও পিয়াশ বড়ুয়া। নান্দনিক মঞ্চসজ্জা করেন গুলাম আকবর মুক্তা এবং শব্দ পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন আরাফাত কীর্তি। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল এআর টেলিভিশন।