ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বরিশালে ধর্মঘট চললেও বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে ফি নিচ্ছেন আইনজীবীরা

বরিশালে ধর্মঘট চললেও বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে ফি নিচ্ছেন আইনজীবীরা
×

আদালতের সামনে বিচারপ্রার্থীদের জমায়েত। ছবি: সমকাল

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৬:৪২ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৭:১৮

সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তারের জেরে বরিশালে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন আইনজীবীরা। আজ বৃহস্পতিবার ধর্মঘটের প্রথম দিনে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। 

তবে আইনজীবীরা আদালতে না গেলে বিচারকরা এজলাসে উঠেন এবং মামলার রুটিন কাজ করেন। এক্ষেত্রে কাগজ প্রস্তত করে আদালতে পাঠাতে বিচারপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে যথারীতি ফি নিয়েছেন আইনজীবীরা। সমকাল অন্তত ১০ জন বিচারপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।  

আজ দুপুরে আদালত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আইনজীবী সমিতির ভবনগুলোর প্রধান ফটকগুলো আটকানো। ভেতরে কিছু সংখ্যক আইনজীবী আড্ডা দিচ্ছেন। বেশীরভাগ আইনজীবী আদালত চত্বরের বিভিন্ন পয়েন্টে জটলা করছেন। অন্যদিকে আদালত কক্ষগুলোর সামনে বিচারপ্রত্যাশীদের ভিড়। বিচারকরা এজলাসে উঠে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে আদালতের ভেতরে আইনজীবী নেই। 

কয়েকজন বিচারপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সকালে আদালতে পৌঁছালেও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মামলার সকল কাগজপত্র প্রস্তুত করে মহুরির মাধ্যমে আদালতে নথিভুক্ত করেন। আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে বিচারকের সামনে কি বলতে হবে তাও আসামিদের শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসবের জন্য মামলার অন্য তারিখের মতো আইনজীবী ফি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিয়াম নামের এক বিচারপ্রত্যাশী। তিনি নারী নির্যাতন মামলার আসামি। জামিনে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত তারিখে আদালতে মহানগর তৃতীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দেন তিনি। 

নারী নির্যাতন মামলায় আরেক বিচারপ্রত্যাশী জাহিদুর রহমান ও আসমা পারভীন দম্পতিও একই তথ্য জানান। মামলার নির্ধারিত তারিখে হাজিরা দিতে তারা ঢাকা থেকে এসেছেন। তারা জানান, আইনজীবী না থাকায় আদালতে শুনানি হয়নি। নতুন আরেকটি তারিখ দেওয়া হয়েছে মাত্র। কিন্তু আইনজীবী ও মহুরি তাদের ফি পুরোটাই নিয়েছেন। 

বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকনকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবীদের ধর্মঘট চলবে। তারা জেলা ও মহানগরের সকল আদালত বর্জন করেছেন।  

বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির কামরুল ইসলাম জানান, বরিশাল আদালতপাড়ায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধীনে ১৭টি, মহানগর আদালতের অধীনে ৫টি, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীনে ১২টি ও ট্রাইব্যুনাল ১১টিসহ মোট ৪৫টি আদালত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সকল আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম হয়েছে। 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক তালুকদার সাবেক এমপি মো. ইউনুস গত সোমবার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তাকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা মঙ্গলবার আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ করেন। দুপুর ২টার দিকে ১০-১২ জন আইনজীবী অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করে বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এর নেতৃত্ব দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন। ওই ঘটনার ভিডিও সন্ধ্যার পর ফেসবুক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার দুপুর ১২টায় আইনজীবী সমিতির মুল ভবনের চেম্বার থেকে লিংকনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই দিনই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) রাজিব মজুমদার বুধবার ১২ জন নামধারী ও অজ্ঞাতপরিচয় ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। 

নামধারী আসামিরা হলেন- গ্রেপ্তার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন, সাধারণ সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ও মহানগর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, মহানগর আদালতের পিপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন মন্টু, নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট সাইদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু, জেলা ছাত্রদল সভাপতি অ্যাডভোকেট তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন ও অ্যাডভোকেট বসির আহমেদ সবুজ।

আরও পড়ুন

×