ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

তুরস্কে বাবা-ছেলের মৃত্যু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবারে মাতম

তুরস্কে বাবা-ছেলের মৃত্যু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবারে মাতম
×

তারেক মিয়া ও সাব্বির মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ | ১৯:৪৫ | আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ | ২০:১৭

তুরস্কে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা বাবা-ছেলে। বুধবার সকালে তাদের শয়নকক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ লাশ উদ্ধার করে। তারা কুর্দিস্তান আরবিল নামক এলাকায় প্লাস্টিক কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা গ্রামের বাড়িতে শোক নেমে এসেছে। 

মৃত ব্যক্তিরা হলেন– মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তাঁর একমাত্র ছেলে সাব্বির মিয়া (২২)। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন মিয়া (২৬)। এ ঘটনায় ফেনীর এক যুবকও মারা গেছেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় ১৬ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে তুরস্কে যান তারেক মিয়া। সেখানে কুর্দিস্তান আরবিল নামক এলাকায় একটি প্লাস্টিক কোম্পানিতে কাজ করতেন। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর চার বছর আগে প্রবাসে থাকাবস্থায় ভিডিও কলে পারভিন আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দুই বছর আগে একমাত্র ছেলে সাব্বিরকেও তারেক মিয়া তুরস্কে নিয়ে যান। সাব্বিরের স্ত্রী ও এক বছর বয়সী ছেলে আছে। 

স্বজনেরা জানতে পেরেছেন, মঙ্গলবার কোম্পানির কাজ শেষে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর তাদের সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিলো না। বুধবার সকালে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। 

পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন

তারেক মিয়ার সহকর্মীদের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তুর্কি পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এ ঘটনার সংবাদ বাড়িতে এলে পরিবারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাদের সান্তনা দিচ্ছেন। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে তারা সরকারের সহোয়তা চেয়েছেন। 

মৃত তারেক মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা ভাই কেউই বেঁচে নেই। এখন আমার স্বামী-সন্তানও মারা গেছেন। আমি একদম নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার ছেলের (সাব্বিরের) এক বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তার ভবিষ্যৎ কি হবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আমার সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনে বিয়ে হয়েছে। আমি তাঁকে এখনো সরাসরি দেখি নাই। সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি, স্বামী-সন্তানের লাশগুলো যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেয়। আমি তাদের একবার নিজ চোখে দেখতে চাই।’

আরও পড়ুন

×