সড়কের মাঝে খুঁটি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি
নেত্রকোনা জেলা শহরের উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কার্যালয়ের সামনের সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনা পৌর শহরের একাধিক স্থানে সড়কের মাঝে রয়েছে ভাঙা ও নড়বড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি। দীর্ঘদিন ধরে এসব খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নেত্রকোনা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা অজহর রোডে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কার্যালয়ের সামনের সড়কে একটি বড় বৈদ্যুতিক খুঁটি প্রায় ছয় মাস ধরে ভাঙা অবস্থায় হেলে আছে। খুঁটিটি যাতে রাস্তায় পড়ে যেতে না পারে সেজন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে শতশত পথচারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী যাতায়াত করলেও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। একই চিত্র পৌর শহরের সাতপাই, মোক্তারপাড়া, মালনীসহ কয়েকটি এলাকায়। এর মধ্যে মোক্তারপাড়া ও মালনী এলাকায় সড়কের মধ্যে ২-৩টি করে বৈদ্যুতিক খুঁটি দেখা গেছে। সাতপাই আলিয়া মাদ্রাসার সামনে রয়েছে একটি ভাঙা বৈদ্যুতিক খুঁটি। দীর্ঘদিনেও এসব বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নেত্রকোনা পৌর শহরের পাটপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী এ টি এম শামছুজ্জামান মাসুদ জানান, কয়েক মাস ধরে খুঁটিটি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় এড়াতে পারবে না বিদ্যুৎ বিভাগ।
অজহর রোডের অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক তপন সাহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খুঁটিটির নিচের অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। যে কোনো সময় ভেঙে রাস্তা বা পাশের বাসাবাড়িতে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিটি মেরামত করা প্রয়োজন। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি অপসারণ করে নতুন খুঁটি স্থাপন করা হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা রোধে স্থায়ী নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। অন্যথায় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সালাহ উদ্দিনের ভাষ্য, একটি খুঁটি সরিয়ে নতুন খুঁটি বসাতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ক্রেন ভাড়া লাগে, অথচ সরকারি বিল পাওয়া যায় মাত্র ৩ হাজার টাকা। অন্যান্য খরচও আছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- সড়ক নিরাপত্তা
