সড়ক বাঁচাতে গিয়ে গ্রামছাড়া কৃষক
এলজিইডির প্রকৌশলীর গাফিলতির অভিযোগ
প্রতীকী ছবি
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১১:৩৪
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়ক রক্ষায় অভিযোগ দিয়ে উল্টো অভিযুক্তের দায়ের করা মামলায় গ্রামছাড়া আবু বকর নামে স্থানীয় এক কৃষক। এমন ঘটনাই এখন আলোচিত সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলাজুড়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, একজন কৃষক জনস্বার্থে অভিযোগ দিলেন সংশ্লিষ্টদের কাছে। তারা সেটি আমলে নিলে মানুষের ভোগান্তি দূর হতো, দোষীদের বিচার হতো আর সবাই সচেতন হতেন। প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না থাকাতেই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। উল্টো সেই কৃষক এখন মামলা আতঙ্কে এলাকাছাড়া।
সরেজমিন তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ধর্মপাশার পাইকুরাটি ইউনিয়নের পাইকুরাটি গ্রামের বকুল মিয়া নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি এলজিইডির একটি সড়কে অনুমতি ছাড়া খোঁড়াখুঁড়ি করেন। পরে ওই রাস্তার নিচ দিয়ে রাতে মোটা পাইপ স্থাপন করা হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয়রা।
পাইকুরাটি-বারহাট্টা হয়ে খাসিকোনা পর্যন্ত ওই সড়কটি উপজেলা এলজিইডির অধীনে। সম্প্রতি সড়কের সমস্যা নিয়ে এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষক আবু বকর। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। এতে প্রশ্রয় পেয়ে অভিযুক্ত বকুলের স্ত্রী ফাতেমা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
আবু বকরের দাবি, লিখিত অভিযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বুকল তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে মামলা করিয়ে আবু বকর ও তাঁর পরিবারের লোকজনকে হেনস্তা করছে।
চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি এলজিইডি প্রকৌশলী বরাবর বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন আবু বকর। এতে বলা হয়, বকুল মিয়া উপজেলা প্রশাসন বা এলজিইডির অনুমতি না নিয়ে তার ব্যক্তিগত স্বার্থে সড়কের একটি অংশের নিচ খুঁড়ে মোটা পাইপ স্থাপন করে। এতে করে বর্ষায় সড়কটির ওই অংশ ধসে গিয়ে জনসাধারণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগ দেওয়ার পর এলজিইডি থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হলেও পাইপ সরানোর ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এদিকে ২ মার্চ বকুল মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন বাদী হয়ে আবু বকর, আবু বকরের ভাই বুদু মিয়া, নাবালক ছেলে অন্তর মিয়া, বাবা নায়েব আলী ও চাচা আব্দুর রাজ্জাককে আসামি করে ধর্মপাশা থানায় মামলা করেন।
আবু বকর জানান, এলজিইডি প্রকৌশলী বকুলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হেনস্তা করতে বকুল তার স্ত্রীকে দিয়ে মামলা করিয়েছে। একটি অভিযোগের কারণে তাঁর জীবন এখন হুমকির মুখে।
বকুলের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোন নাম্বারে কল করা হলে তিনি কথা বলতে শুরু করেন। তবে এতে বাধা দেন তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। পরে ফাতেমা বলেন, এলজিইডিতে অভিযোগ দেওয়ার জন্য মামলা হয়নি। মামলা হয়েছে অন্য কারণে। মামলাটি মিথ্যা নয়, সাক্ষী আছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বলেন, তদন্তে দেখা যায় আবু বকর ও বকুলের মধ্যে দ্বন্দ্ব আগে থেকে। পাইপটি সরানোর জন্য বকুলকে বলা হয়েছিল। কিন্তু সরানো হয়নি। ব্যবস্থা না নেওয়ায় আবু বকরকে মামলা দিয়ে হয়রানির সাহস পেয়েছে অভিযুক্তরা– এমন অভিযোগের ব্যাপারে প্রকৌশলী বলেন, যাতে মামলায় যেতে না হয় সেটি চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু তারা পরে আর আসেননি।
- বিষয় :
- এলজিইডি
