নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগে ক্ষোভ
উত্তাল পদ্মাপার, প্রতিবাদের ঝড়
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ২০:৫১ | আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ২০:৫৩
বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠন করেছে।
এই খবর জানাজানি হওয়ার পর রাজশাহীতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে; সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বইছে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড়। শিক্ষানগরী রাজশাহীর ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক গুরুত্ব রক্ষায় নেসকোর সদরদপ্তর স্থানান্তর ঠেকানো এখন স্থানীয়দের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে একটি ডিও লেটার দেন। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, নেসকোর অপারেশনাল এলাকা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে পাবনা পর্যন্ত বিস্তৃত। সদরদপ্তর রাজশাহীতে হওয়ায় রংপুর বিভাগের অনেক কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজশাহী ও রংপুরের মধ্যবর্তী স্থান হিসেবে বগুড়া ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক বলে তিনি সেখানে সদরদপ্তর স্থানান্তরের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ গত ৩ মার্চ তিন সদস্যের একটি সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠন করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয় অনুবিভাগ) মোহাম্মদ সানাউল হককে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই উদ্যোগের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে রাজশাহীর সচেতন মহল। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, ‘বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে সবকিছু বগুড়ায় নিয়ে যাওয়ার একটি প্রবণতা আমরা সব সময় লক্ষ্য করেছি। বিদ্যুৎ বিভাগ দুর্নীতিতে ভরা। রাজশাহীতে আমরা যারা সচেতন, তারা নেসকোর অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলি। বগুড়ায় চলে গেলে তারা যা খুশি তাই করার সুযোগ পাবে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে রাজশাহীবাসী মাঠে নামতে বাধ্য হবে।
বিষয়টি নিয়ে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান জানান, তিনি লোকমুখে শুনলেও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাননি। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব ফারজানা খানম জানিয়েছেন, ডিও লেটারের ভিত্তিতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির প্রতিবেদনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
